সাইবার হামলার শঙ্কা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসাবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়। অধিক সতর্কতার জন্য ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিশ্লেষণ করে দ্রুত এটি চালু করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সাইবার নিরাপত্তা দল কাজ করছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ আশঙ্কায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবার ওয়েবসাইটও সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত একটি সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় এটি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক ওয়েবসাইটেও এ প্রযুক্তি রয়েছে। তবে কোনো ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহার করা হলেই সেটি ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে এসব ওয়েবসাইট পিএইচপির এই ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে এর বাইরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
বেসরকারি হোস্টিং প্রতিষ্ঠান লিমডা হোস্টের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জুনাইদ মিয়াজী গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপিভিত্তিক। নিরাপত্তা ত্রুটির খবর পাওয়ার পর তারা সার্ভারে সংশোধিত প্যাচ প্রয়োগ করেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যবস্থায় এ ত্রুটির কারণে কোনো প্রভাব শনাক্ত হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি সার্ভারগুলোতে পিএইচপির কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তার তালিকা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, ইন্টারনেটে সরাসরি উন্মুক্ত সার্ভারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজনে সংশোধিত সংস্করণে যেতে হবে। হালনাগাদ করার আগ পর্যন্ত ফায়ারওয়াল দিয়ে ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। তবে কোনো সার্ভার হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সেটি সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা উচিত।
সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পরামর্শ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে তাদের সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করতে হবে। এরপর উপযুক্ত নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করে তা কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
