মাদক সম্রাট জুয়েলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা
২৪ ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক সম্রাট ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সালমা জাহানের অবৈধ অর্থের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ নিয়ে সম্প্রতি ডিএনসির একজন কর্মকর্তা জুয়েল রানার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জুয়েল ও তার স্ত্রীর ২৪টি ব্যাংক হিসাবে ৯ বছরে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। মাদকের কারবার থেকে অর্জিত এসব অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শীর্ষ এই মাদক কারবারির নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৯টি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। জুয়েল রানা কারাগারে সাজা খাটলেও তার মাদক সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, জুয়েল রানার একটি আয়কর ফাইল রয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের বৈধ কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার অর্জিত অর্থ সম্পদের পুরোটাই এসেছে মাদক কারবার থেকে। সীমান্ত পথে ভারত থেকে হেরোইন এনে পাইকারিতে সরবরাহ করেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তদন্ত শেষে স্বামী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে।
মানি লন্ডারিং মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জুয়েল রানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মালবাগডাঙ্গা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বেলেপুকুর মহল্লার বাড়িতে বসবাস করে। কিশোর বয়সেই জুয়েল রানা মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে যায়।
এজাহার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় মোট ১২টি হিসাব চলমান রয়েছে জুয়েল রানার। এর মধ্যে চারটি চলতি হিসাব, তিনটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও ৫টি সঞ্চয় হিসাব। এসব হিসাবে ৯ বছরে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৩১৭ টাকা। ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জুয়েল রানার নামে দুটি বাড়িসহ মোট ছয়টি জমির তথ্য উঠে এসেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তার একটি পেট্রোলপাম্প ও ঢাকায় আরও দুটি বাড়ি থাকলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি ডিএনসি। অন্যদিকে জুয়েল রানার স্ত্রী সালমা জাহানের নামেও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ১২টি হিসাব রয়েছে। গত ৮ বছরে এসব হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ৯৭০ টাকা। ডিএনসির অনুসন্ধানে জুয়েল রানার স্ত্রীর নামে থাকা ২২ লাখ ৬ হাজার টাকার ৫টি জমির তথ্য উঠে এসেছে।
