আজ ১১ দলের ৪১০ কিমি. দীর্ঘ লংমার্চ শুরু
সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে দেশ-পরওয়ার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাত দফা দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি আজ। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। নেতাদের প্রত্যাশা-লংমার্চে শেষ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে লংমার্চ প্রথমে যাবে খুলনায়, পরে সেখান থেকে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া গিয়ে শেষ হবে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতির কথা জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেন, শুরু থেকেই বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে নানা টালবাহানা করছে। গণভোটের রায় যদি তারা বাস্তবায়ন করত তাহলে আমাদের লংমার্চ করার প্রয়োজন হতো না। বিএনপি দেশকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার। শুক্রবার বিকালে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াত নেতারা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা পরিদর্শন করেন। শনিবার সেখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে।
গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা ও আশপাশের জেলা ছাড়াও খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এই লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। শুরুতে প্রায় ৬০০ গাড়ি ঢাকা থেকে রওয়ানা হবে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরটি প্রায় দেড় হাজার গাড়িতে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গের প্রতিবাদ এবং সাত দফা দাবি আদায়ে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। দাবিগুলোর পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান এবং দাম কমানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা।
পরওয়ার জানান, লংমার্চের পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা (সকাল ৯টা); বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড় (সকাল ১১টা); খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর (বেলা ১২টা ৩০) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর (দুপুর ২টা); যশোরের মুড়লীর মোড় (বিকাল ৩টা ৩০); ঝিনাইদহের বাস টার্মিনাল (বিকাল ৫টায়) পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় রাত সাড়ে ৮টায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো লংমার্চ সফল করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। ১৪শ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার আহত হয়েছেন। অনেকে এখনো দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন। জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে যারা এখনো গ্রেফতার হয়নি, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং নতুন করে গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এমনিতেই চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারকে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক দলীয়করণ চলছে। সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যন্ত দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব চলছে। হাট-বাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির ধরন পরিবর্তন হয়নি শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।
