ইসরাইলের নির্বাচন উগ্রপন্থিদের রঙ্গমঞ্চ, ফিলিস্তিনিদের জন্য নেই সুখবর
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। নেতানিয়াহুর শাসন নিয়ে জনমত যাচাইয়ের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ইসরাইলের সংসদে ফিলিস্তিনিদের অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও আইন নিয়ে ভোটাভুটিতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন ডানপন্থিদের পাশাপাশি বিরোধী অনেক দলও একই অবস্থান নিয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও ফিলিস্তিন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরাইলের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থির বিভাজন মূলত ফিলিস্তিন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। বামপন্থিরা সাধারণত ভূখণ্ড নিয়ে সমঝোতা ও আলোচনার পক্ষে। অন্যদিকে ডানপন্থিরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্র্রসারণকে সমর্থন করে। গত কয়েক বছরে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিসর আরও ডানদিকে সরে গেছে। একসময় কট্টর ডানপন্থিদের অবস্থান হিসাবে বিবেচিত অনেক ধারণা এখন মূলধারার রাজনীতিতেও জায়গা করে নিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। জোটে ছিল শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং কট্টর ডানপন্থি রিলিজিয়াস জায়নিস্ট ও ওতজমা ইয়েহুদিত। কট্টর ডানপন্থি নেতা বেজালেল স্মোত্রিচ দেশটির অর্থমন্ত্রী। অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেসামরিক কার্যক্রম ও বসতি পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তার কর্তৃত্ব রয়েছে। আর ইতামার বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী হিসাবে পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন। দুই নেতাই পশ্চিম তীর দখল ও বসতি সম্প্র্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারে তাদের প্রভাব বিভিন্ন সময়ে নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করে ইসরাইলের সংসদে একটি প্রস্তাব ৯৯-১১ ভোটে পাশ হয়। ক্ষমতাসীন জোটের পাশাপাশি বিরোধী দল ইয়েশ আতিদ ও ন্যাশনাল ইউনিটির অধিকাংশ সদস্যও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেয় আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। একই বছরের জুলাইয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি উল্লেখ করে আরেকটি প্রস্তাব ৬৮-৯ ভোটে পাশ হয়। এবারও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার আহ্বান জানানো একটি প্রস্তাব ৭১-১৩ ভোটে পাশ হয়। ইয়েশ আতিদ ও ন্যাশনাল ইউনিটি ভোট বর্জন করে। লেবার পার্টি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। একই বছরের অক্টোবরে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আইন প্রয়োগের একটি বিল সংসদে প্রাথমিক অনুমোদন পায়। ভোটের ফল ছিল ২৫-২৪।
