Logo
Logo
×

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র

আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, যা জানা দরকার

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, যা জানা দরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভার্জিনিয়ায় আগাম ভোট দিচ্ছেন নাগরিকরা। ছবি: গেটি ইমেজেস

Advertisement

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে দেশটির প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটার নির্ধারণ করবেন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার বাকি সময়টায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তবে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ে গঠিত কংগ্রেস দেশটির আইন প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে।

আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে কীভাবে ভোট হবে, কোন আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলাফল দুই দলের জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে, তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কী হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সদস্যসংখ্যা ও নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয়।

এবার প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে দুটি বিশেষ নির্বাচনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া আসন পূরণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন করবেন ভোটাররা।

প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাদের মেয়াদ দুই বছর। অন্যদিকে সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর গণভোট হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক টড বেল্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সাল থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬ দশমিক ৫টি আসন হারিয়েছে। সিনেটেও সাধারণত কয়েকটি আসন হারানোর নজির রয়েছে।

কংগ্রেস ও গভর্নর নির্বাচনের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদেও নির্বাচন হবে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাদিয়া ব্রাউন বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন স্থানীয় রাজনীতির মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, ব্যালটে থাকা স্থানীয় প্রস্তাব ও গণভোটের বিষয়গুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।


প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কী ঝুঁকিতে?

বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা পাবেন।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের তিনটি আসন এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে চারটি আসন বাড়াতে হবে। সিনেটে দুই দলের আসন সমান ৫০-৫০ হলে রিপাবলিকানরাই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন। কারণ, সমান ভোটের ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সিদ্ধান্তমূলক ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

টড বেল্টের মতে, ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে থাকা বিভিন্ন অর্থায়নসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন কার্যত থমকে যাবে।

প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন যেভাবে হয়

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। এর ৪৩৫ জন সদস্য প্রত্যেকে একটি করে নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন হয়।

প্রতি ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত আদমশুমারির ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যা অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হয়। সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫২টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াইয়োমিং ও ভারমন্টের মতো কম জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্যে রয়েছে একটি করে আসন।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হবে।

বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২১৪টি আসন রয়েছে। একজন স্বতন্ত্র সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দুটি আসন শূন্য রয়েছে, যার একটি সর্বশেষ রিপাবলিকান এবং অন্যটি ডেমোক্র্যাট সদস্যের দখলে ছিল।

নতুন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নেবেন।


যে আসনগুলোতে নজর থাকবে

প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। যে দল ২১৮টি আসন পাবে, তারাই প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেবে। ফলে অল্প কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

টড বেল্টের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে প্রায় ৩৫টি আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার পূর্বাভাস, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৫টি আসন বাড়াতে পারে। তার মতে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত ৯টি আসনে সুবিধা পেয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত ভোটাররা একই দলের প্রার্থীদের ভোট দেন। ফলে জাতীয় পর্যায়ের ভোটের প্রভাব অন্যান্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।

যেসব নির্বাচনী এলাকায় দুই দলের যেকোনো প্রার্থীর জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন বলা হয়। এমন ১২টি গুরুত্বপূর্ণ আসনের দিকে নজর থাকবে এবারের নির্বাচনে।

সিনেটের নির্বাচন যেভাবে হয়

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ হলো সিনেট। এর সদস্যসংখ্যা ১০০। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে জনসংখ্যা নির্বিশেষে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।

এবার নিয়মিত নির্বাচনে ৩৩টি আসনে ভোট হবে। পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মার্কো রুবিও ও জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে তাদের মেয়াদের বাকি দুই বছরের জন্য নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৩৫টি আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ২২টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ১৩টি।

বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ জন সদস্য রয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ জন এবং তাদের সঙ্গে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর। ফলে ডেমোক্র্যাটপন্থি শিবিরের মোট সদস্যসংখ্যা ৪৭।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা অন্তত ৫১-তে উন্নীত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তমূলক ভোটের কারণে রিপাবলিকানরা ৫০টি আসন পেলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।

নতুন সিনেটের সদস্যরা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নেবেন।


সিনেটের যেসব আসনে নজর থাকবে

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ১৩টি আসন রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি আসনও নিজেদের করে নিতে হবে।

জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান মাইক কলিন্স। মিশিগানের শূন্য আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্স। নিউ হ্যাম্পশায়ারের শূন্য আসনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাসের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান জন সুনুনু।

রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনগুলোর মধ্যে মেইন ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সুযোগ রয়েছে। মেইনে সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। জুলাইয়ে প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী গ্রাহাম প্ল্যাটনার সরে দাঁড়ানোর পর তিনি প্রার্থী হন। নর্থ ক্যারোলাইনার শূন্য আসনে ডেমোক্র্যাট রয় কুপারের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলি।

এ ছাড়া ওহাইও, আলাস্কা ও আইওয়াতেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের নতুন পথ খুঁজতে থাকায় টেক্সাস ও কানসাসের প্রতিও নজর বাড়ছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের সংখ্যা বাড়ায় সিনেটে জয়ের সম্ভাবনাও বেড়েছে।

নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী?

নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় জীবনযাত্রার ব্যয়। জ্বালানির দাম, বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছে পরিবারগুলোর বাজেট।

এ ছাড়া প্রজনন অধিকার, অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতিও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কারা ভোট দেবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি। সরকারি তথ্য সংকলনকারী নির্দলীয় সংস্থা ইউএসএফ্যাক্টসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি বাসিন্দাদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত।

নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে ভোটার ২ কোটি ৩২ লাখ। এরপর টেক্সাসে ১ কোটি ৭৪ লাখ এবং ফ্লোরিডায় ১ কোটি ৩৬ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। এই তিন অঙ্গরাজ্যের ভোটার মোট নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় ২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে ওয়াইয়োমিং, ভারমন্ট ও আলাস্কায়। অঙ্গরাজ্য তিনটিতে যথাক্রমে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬৮, ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৫ এবং ৬ লাখ ৩ হাজার ৩১০ জন ভোটার রয়েছেন।


বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভোটের প্রবণতা

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৪ শতাংশ নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন ৩৬ শতাংশ। অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

পুরুষ ভোটারদের মধ্যে দুই দলের সমর্থন সমান। উভয় দলের প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন ৪২ শতাংশ করে পুরুষ ভোটার। অন্যদিকে নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৫ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৩১ শতাংশ।

জরিপে লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটের পছন্দের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। ১৯৪৪ সাল থেকে হিসাব অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনে গড়ে ৪২ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির গড় ৫৮ শতাংশ।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে?

রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটরা তাদের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারবেন। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার ক্ষমতাও রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের হাতে।

সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। কোনো বিল আইনে পরিণত হতে হলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেট এককভাবে কোনো আইন পাস করতে পারবে না।

টড বেল্টের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ে দুই দলের বিরোধ বাড়বে। বিশেষ করে সরকারি সংস্থাগুলোর অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ১২টি বার্ষিক বিল নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এর ফলে সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে। অর্থায়ন বন্ধ হলে অনেক সরকারি সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

বেল্টের মতে, কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়লে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে প্রেসিডেন্টরা মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের দুই কক্ষ ভিন্ন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় পুরোপুরি পররাষ্ট্রনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।


সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে?

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তারা আইন প্রণয়ন আটকে দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিভিন্ন পদে নিয়োগও প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত।

এ কারণে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ শুধু আগামী দুই বছরের জন্য নয়, আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কেন্দ্রীয় বিচারকদের নিয়োগ আজীবনের জন্য হয়। ফলে কোনো প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের দেওয়া রায় দেশটির আইন ও নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করলে তার বিচার হয় সিনেটে। তবে প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো দলের পক্ষেই এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সহজ নয়।

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেই কি ডেমোক্র্যাটদের পূর্ণ ক্ষমতা আসবে?

না। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণ ক্ষমতা পাবে না। কারণ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

এ ছাড়া সিনেটের নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ বিলের ওপর বিতর্ক শেষ করতে ৬০টি ভোট প্রয়োজন হয়। তবে বাজেটসংক্রান্ত কিছু বিল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করা যায়। ফলে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনো দল তাদের সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এর আগে দুইবার অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। তবে তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে।

টড বেল্টের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তিনি বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত অবশ্যই হবে। তবে নতুন করে অভিশংসনের সম্ভাবনা কম। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা আগে দুইবার এ চেষ্টা করেছেন এবং দুইবারই রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।


কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল?

৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (জিএমটি রাত ১১টা) প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর ফল আসতে শুরু করবে। তবে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিনও লাগতে পারে।

নির্বাচনের রাতে প্রকাশিত ফল প্রাথমিক হিসাব। ডাকযোগে পাঠানো ভোট, অস্থায়ী ব্যালট এবং বাকি থাকা অন্যান্য ভোট গণনা ও ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে এ সময়ের পার্থক্য রয়েছে।

টড বেল্ট বলেন, কিছু অঙ্গরাজ্যে ফল জানতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে ১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে।

বেল্ট সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের প্রাথমিক ফল দেখে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রথমে রিপাবলিকান প্রার্থীরা এগিয়ে থাকতে পারেন। পরে ডাকযোগে পাঠানো ভোট গণনা হলে ব্যবধান কমে যেতে পারে কিংবা ফল উল্টে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘রেড মিরাজ’।

আবার যেসব অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে পাঠানো ভোট আগে গণনা করা হয়, সেখানে এর বিপরীত চিত্র দেখা যেতে পারে।

ভোট গণনায় বিলম্ব কিংবা কোনো প্রার্থীর এগিয়ে থাকার অবস্থান পরিবর্তন হলেই তা নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ নয়।

৩ নভেম্বরের নির্বাচন নির্ধারণ করবে, যুক্তরাষ্ট্রে কারা আইন প্রণয়ন করবেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাবেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর মধ্য দিয়েই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি সময়ের জন্য দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, সামরিক বাহিনীকে যে কঠোর বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, সামরিক বাহিনীকে যে কঠোর বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যুগের অবসান নাকি নতুন যুদ্ধ?

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যুগের অবসান নাকি নতুন যুদ্ধ?

যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগা দিয়ে ইরানের ২০০ কোটি ডলারের সামরিক আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগা দিয়ে ইরানের ২০০ কোটি ডলারের সামরিক আমদানি

সরকারি কর্মীদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

সরকারি কর্মীদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

আরও পড়ুন

আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, যা জানা দরকার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, যা জানা দরকার

সরকারি কর্মীদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

সরকারি কর্মীদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম