Logo
Logo
×

Advertisement

দৃষ্টিপাত

একটি সইয়ের মূল্য যখন ২ কোটি টাকা!

Icon

আহসান হাবিব বরুন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

একটি সইয়ের মূল্য যখন ২ কোটি টাকা!

পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতির দানবীয় রূপ কতটা প্রকট ও লাগামহীন হতে পারে, তার এক নির্মম বাস্তবতা উঠে এসেছে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ভাইরাল হওয়া এক কথোপকথনে। একটি সাধারণ দাপ্তরিক স্বাক্ষরের বিনিময়ে প্রকাশ্যে দুই কোটি টাকা ঘুস দাবি করার এই ভিডিওটি কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নৈতিক পতনকে চিহ্নিত করে না, বরং এটি আমাদের সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে গজিয়ে ওঠা চরম অরাজকতা ও জবাবদিহিহীনতার একটি নগ্ন দলিল। 

একটি সইয়ের দাম যখন নির্ধারিত হয় কোটি টাকার অঙ্কে, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলা রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়া আজ কতটা জিম্মি হয়ে পড়েছে একশ্রেণির সুবিধাভোগী আমলা ও কর্মকর্তার কাছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন সর্বত্র অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় জমে থাকার কথা বলেছেন এবং সেই পাহাড় ভেঙে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তখন লক্ষ্মীপুরের এই ঘটনা তার বক্তব্যের বাস্তবতা উপলব্ধি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যুৎ খাত কিংবা অবকাঠামোগত প্রতিটি খাতে আজ অনিয়মের এমন এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা পুরো রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে ভেতর থেকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে যে সংলাপ শোনা গেছে, তা কোনো অপরাধভিত্তিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। আট মিনিট ৫০ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন যেভাবে নির্দ্বিধায় বলেছেন যে এসি স্যার রাজি হয়ে গেছেন এবং তিনি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বেন না, দরকার হলে চেয়ারম্যানের কাছে যাবেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে ঘুষের এই লেনদেন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এক প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের অংশ।

তার পরের মন্তব্যটি আরও ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নেওয়া হয়, তবে চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে যাবেন না, বরং তাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবেন। এই একটি বাক্যই উন্মোচন করে আমাদের আমলাতন্ত্র ও মেগা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরের পচনের খবর।

একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যখন দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মানেন যে কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না, বরং লাভজনক জায়গায় পোস্টিং মিলবে, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য দুর্নীতির মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। দুর্নীতি এখানে কোনো গোপন অপরাধ নয়, বরং একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিয়েছে, যেখানে সৎ কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে অনিয়মকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

প্রকল্পের কেনাকাটা ও সরকারি সম্পদের মালামাল আত্মসাতের যে হিসাব ভিডিওতে উঠে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের পারস্পরিক যোগসাজশে কীভাবে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। কাজের মান ও জনগণের সেবা এখানে সম্পূর্ণ গৌণ, মুখ্য উদ্দেশ্য শুধুই পার্সেন্টেজ ভাগাভাগি এবং অবৈধ কমিশন আদায়।

লক্ষ্মীপুর পিডিবির ঘটনাটি নিছক একটি স্থানীয় উদাহরণ মাত্র। দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তর, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, সড়ক, জনপথ, ওয়াসা ও গৃহায়ণ খাতে একই চিত্র বিরাজমান।

ঠিকাদাররা অভিযোগ তুলেছেন যে ঘুষের অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়, কাজের বিলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হয় এবং দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হয়। ঠিকাদাররা যখন কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তখন সেই ঘাটতি মেটাতে গিয়ে তারা প্রকল্পের কাজে মানহীন উপকরণ ব্যবহার করেন অথবা প্রকল্পের সময়সীমা ও ব্যয় বারবার বাড়িয়ে নেন। কখনো রডের বদলে বাঁশ বসিয়ে দেন।

ফলে সৎ ও পেশাদার ঠিকাদাররা এই ঘুষের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বাজার থেকে ছিটকে পড়েন এবং পুরো ব্যবস্থাটি চরম দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

পিডিবির মতো একটি স্পর্শকাতর খাতে যখন দুই কোটি টাকায় স্বাক্ষর কেনাবেচা হয়, তখন সেই মাশুল আলটিমেটলি দিতে হয় এ দেশের সাধারণ জনগণকে। এতে একদিকে যেমন ঘাটতি ও লোডশেডিং বাড়ে, অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তিল তিল চাপ এসে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষের কাঁধে।

আমাদের প্রশাসনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট হলো ঘটনা প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন ও সাময়িক বরখাস্তের থোড়বড়ি খাড়া নাটক। ভিডিও ফাঁসের পর প্রথাগতভাবেই বলা হয়েছে যে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু ইতিহাস বলে যে এই তদন্ত কমিটিগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কালক্ষেপণ এবং অপরাধীদের পার পাইয়ে দেওয়ার নিরাপদ আইনি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই পুঞ্জীভূত অনিয়ম ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা দেশবাসীর মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও ন্যায়ের প্রত্যাশা করছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত পদক্ষেপ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তা আজ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার এই আপসহীন ভূমিকা সর্বস্তরের জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

যদি সত্যিই দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও হাসির ফোয়ারা ফোটাতে হয়, তবে এই তথাকথিত আমলাতান্ত্রিক ও আইনি শিথিলতার খোলস থেকে রাষ্ট্রকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে নুরুল আমিনদের মতো শিকড় গেড়ে বসা দুর্নীতিবাজদের কেবল বরখাস্ত বা বদলি নয়, বরং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলতে চাই, আপনাকে যত কঠোরই হতে হোক না কেন, এ দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেই কঠোরতা অবলম্বন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায় থেকে যদি এই নুরুল আমিনদের মূল উৎপাটন করা না যায়, তবে দুর্নীতি নির্মূলের যেকোনো প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে। সুতরাং আপনার শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর ভর করেই এ দেশের মানুষ একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।

আরেকটি নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, দুদকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়, তা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।

একটি সইয়ের দাম দুই কোটি টাকা চাওয়ার সাহস তখনই তৈরি হয়, যখন ব্যবস্থার ভেতরে বিচারে পার পেয়ে যাওয়ার একটা আগাম নিশ্চয়তা থাকে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এই সংকট দূর করতে হলে ঘুষের ভিডিও ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ তদন্তের নামে সময় নষ্ট না করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একই সাথে সরকারি কেনাকাটা, ঠিকাদারদের বিল অনুমোদন ও প্রশাসনিক ফাইলে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ যথাসম্ভব কমিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অটোমেটেড সিস্টেম চালু করা দরকার।

জায়গামতো পোস্টিং পাওয়ার যে দুর্ভেদ্য সিন্ডিকেট আমলাতন্ত্রের গভীরে তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে ফেলা এবং পদায়নে স্বচ্ছতা আনা জরুরি। কেবল কর্মকর্তা নয়, তাদের পরিবার ও বেনামে অর্জিত সমস্ত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, একটি দেশের সাধারণ মানুষ যখন তাদের ঘাম ঝরানো উপার্জনের ওপর কর দেন, আর সেই করের টাকায় পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি সইয়ের বিনিময়ে কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে, তখন তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং পুরো জাতির বিবেক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রাকে টেকসই করতে হলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। এ দেশের গরিব-দুঃখী ও খেটে খাওয়া মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

সুতরাং লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা যেন সরকারি ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারেন, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে; আর কালক্ষেপণ নয়—দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে চুরমার করার পাশাপাশি এর শিকড় উপড়ে ফেলার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

ই-মেইল: [email protected]



Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দুর্নীতিবাজ শনাক্তে কমিটি, বিদেশ সফরে কড়াকড়িসহ সচিবদের ২৩ নির্দেশনা

দুর্নীতিবাজ শনাক্তে কমিটি, বিদেশ সফরে কড়াকড়িসহ সচিবদের ২৩ নির্দেশনা

সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কঠোর বার্তা দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে

দুর্নীতির মামলায় এসকে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় এসকে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

আসিফের বিরুদ্ধে ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আসিফের বিরুদ্ধে ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সুইস ব্যাংকেও টাকা রাখার অভিযোগ

অনুসন্ধানে দুদক আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সুইস ব্যাংকেও টাকা রাখার অভিযোগ

আরও পড়ুন

একটি সইয়ের মূল্য যখন ২ কোটি টাকা!

একটি সইয়ের মূল্য যখন ২ কোটি টাকা!

দৃষ্টিপাত সংকট মোকাবিলায় জাগতিক কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি

সংকট মোকাবিলায় জাগতিক কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি

প্রশ্ন যখন সরকারের ‘অস্তিত্ব’

প্রশ্ন যখন সরকারের ‘অস্তিত্ব’

হৃদরোগকে অবহেলা নয়

হৃদরোগকে অবহেলা নয়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম