Logo
Logo
×

Advertisement

দৃষ্টিপাত

শিশুদের পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লার ছবি কেন?

Advertisement

আহসান হাবিব বরুন

আহসান হাবিব বরুন

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ পিএম

শিশুদের পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লার ছবি কেন?

সংগৃহীত

Advertisement

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের শিক্ষাব্যবস্থা জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর। কিন্তু সেই ভিত্তি যদি নীতিহীন তোষামোদি, আদর্শহীন অন্ধত্ব ও দায়িত্বহীনতার ওপর দাঁড়ায়, তবে তার চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে! সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক স্তরের বাংলা বইয়ে যে নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; কোমলমতি শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে এক নির্মম তামাশা। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি। অথচ এসব ছবির অনেকগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঠের ন্যূনতম যৌক্তিক সম্পর্ক নেই। একে নিছক ভুল বা শিল্পীর স্বাধীনতা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক তোষামোদি ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপপ্রয়াস, যা শিশুদের শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে।

শিক্ষার মৌলিক নীতি হলো, পাঠ্যবইয়ের ছবি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরিপূরক হবে এবং শিশুর কল্পনাশক্তি ও জ্ঞান বিকাশে সহায়তা করবে। অথচ এনসিটিবির বইয়ে পাঠের সঙ্গে সংগতি না রেখেই পাতার পর পাতা নৌকার ছবি বসানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়’ বাক্যের সঙ্গে নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ‘ভোর হলো’ কবিতা এবং ‘আমাদের দেশ’ অধ্যায়েও রয়েছে নৌকার ছবি। তৃতীয় শ্রেণির ‘আমাদের গ্রাম’, ‘আজিকার শিশু’ এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ‘তালগাছ’ কবিতার সঙ্গেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে নৌকার ছবি।

তালগাছ কবিতার সঙ্গে নৌকার কী সম্পর্ক? ভোরে ঘুম ভাঙার কবিতার সঙ্গেই বা নৌকার সংযোগ কোথায়? রবীন্দ্রনাথ কি তার তালগাছ কবিতায় নৌকার কথা বলেছেন? একেবারেই না। তাহলে এই অন্ধ তোষামোদি কেন? এর উদ্দেশ্য একটি বিশেষ প্রতীককে শিশুদের অবচেতন মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে দেওয়া কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। পাঠ্যবইয়ে এভাবে অপ্রাসঙ্গিক ছবি ঢুকিয়ে দেওয়া শিক্ষার মান নিয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে এনসিটিবির প্রতিক্রিয়া আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাপার কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এবার বইগুলো সংশোধন করা সম্ভব নয়। এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেছেন, বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিলিয়ে শিল্পীরা ছবি এঁকেছেন এবং কনটেন্ট পরিবর্তন না হলে ছবি বদলানো কঠিন। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। 

প্রশ্ন হলো, এই দায় কার? যারা ছবিগুলো অনুমোদন করেছেন কিংবা যাচাই-বাছাই না করেই ছাড় দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? নির্দেশনা ছাড়া শিল্পীরা কি এমন কাজ করেছেন? নির্দেশদাতারা কারা, আর কারা পেছন থেকে এই শৈল্পিক সন্ত্রাসের সুতো নেড়েছেন? তাদের মুখোশ উন্মোচন না করলে শিক্ষাব্যবস্থায় এমন দায়িত্বহীনতা বন্ধ হবে কীভাবে? ছাপার কাজ শেষ হয়ে গেলেই কি ভুল সংশোধনের পথ বন্ধ হয়ে যায়? নাকি জনগণের টাকায় ভুল ও পক্ষপাতদুষ্ট বই ছাপিয়ে তা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার এ এক কৌশল?

এনসিটিবির দায়িত্বহীনতা শুধু বাংলা বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে নলেজ পিরামিডে প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এনসিটিবি জানিয়েছে, ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ১৮ লাখ ইতোমধ্যে স্কুলে সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাকি ২০ লাখ ছাপার কাজ চলছে। বিতর্কের মুখে সরবরাহ করা বই ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে নতুন পৃষ্ঠা যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। 

তাহলে আইসিটি বইয়ের ক্ষেত্রে সংশোধন সম্ভব হলে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ৮২টি অপ্রাসঙ্গিক নৌকার ছবি পরিবর্তন করা যাবে না কেন? এক বইয়ের পৃষ্ঠা বদলানো সম্ভব, অন্য বইয়ের ক্ষেত্রে কেন ছাপা শেষ কিংবা কনটেন্ট পরিবর্তনের জটিলতার অজুহাত? এই বৈষম্যমূলক আচরণ এনসিটিবির নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটি কি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে, নাকি কোনো রাজনৈতিক কুশীলবের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে? এর পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির চাপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

অথচ আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামের বইগুলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু এনসিটিবির একশ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তার রাজনৈতিক চরিতার্থ হাসিলের অপচেষ্টা এই ইতিবাচক উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার ধারাবাহিকতা নিয়েও অতীতে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। বই ছাপা ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল; চলতি শিক্ষাবর্ষেও এই বিলম্বের অবসান ঘটেনি। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বরেই আগামী শিক্ষাবর্ষের বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক প্রামাণ্য ই-বুকেও চূড়ান্ত বার্ষিক পরীক্ষার সময় নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বছরের প্রথম দিন বা তার আগেই নতুন বই হাতে পেয়ে ক্লাসে ফিরতে পারে, সেটিই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। 

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছাকে ব্যর্থ করে দিতেই কি পাঠ্যবইয়ে ৮২টি বিতর্কিত নৌকার ছবি পরিকল্পিতভাবে ঢোকানো হয়েছে? এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংশোধন ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত সময়ে বই বিতরণ বাধাগ্রস্ত করার কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এনসিটিবির ভেতরে থাকা সুবিধাবাদী ও চক্রান্তকারী কোনো সিন্ডিকেট সরকারের এই উদ্যোগকে ব্যর্থ করতে শিক্ষাঙ্গনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে কি না, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিছক ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নীরব অন্তর্ঘাতের অংশ—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

শিশুরা তাদের পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে চারপাশের পৃথিবীকে চিনতে শেখে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম তিনটি শ্রেণি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দেয়। এই বয়সে তাদের বর্ণমালা, সততা, নৈতিকতা, প্রকৃতি ও মুক্তচিন্তা শেখানোর কথা। সেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতীককে বারবার উপস্থাপন করে শিশুদের অবচেতন মনে তার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এক ধরনের মানসিক আগ্রাসন। নদীমাতৃক বাংলাদেশ বলে কি প্রতিটি কবিতা ও গদ্যের পাতায় নৌকার ছবি থাকতে হবে? এ দেশে মাঠ, ঘাট, ফুল, ফল, পাখি, নদ-নদী ও মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন রয়েছে। সেগুলো উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে, পাঠ্যবই প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একাংশ শিক্ষাবিদসুলভ নিরপেক্ষতার পরিবর্তে দলীয় তোষামোদিতে মত্ত। 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, শিক্ষা খাতে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে যোগ্য, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাবিদদের উপেক্ষা করার পরিণতি আজ স্পষ্ট। মেধার চেয়ে তোষামোদি বড় হয়ে উঠলে পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছড়াছড়ি কিংবা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ জন্য শুধু এনসিটিবির কর্মকর্তারাই দায়ী নন; রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতিনির্ধারকদেরও দায় নিতে হবে। অতীতেও পাঠ্যবইয়ে ভুল বানান, অসংলগ্ন তথ্য এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত কমিটি গঠনের পর বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে গেছে এবং দায়ীরা পার পেয়ে গেছেন। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই দায়িত্বহীনতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

এখানে আমি দ্বিধাহীন শিখতে বলতে পারি যে, এই জাতি আর কোনো তামাশা দেখতে চায় না। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে ব্যবহৃত ৮২টি অপ্রাসঙ্গিক নৌকার ছবি অবিলম্বে বাতিল করে পরিমার্জিত ও মানসম্মত ছবি যুক্ত করতে হবে। আইসিটি বইয়ের ক্ষেত্রে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘ছাপা শেষ’ কিংবা ‘কনটেন্ট পরিবর্তন কঠিন’—এ ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এনসিটিবির কর্মকর্তা, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাঠ্যপুস্তককে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাঠ্যবই প্রণয়নের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় তোষামোদি থেকে মুক্ত করে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, শিশুসাহিত্যিক, মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

 পরিশেষে বলতে চাই,শিশুরা জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের ভবিষ্যৎকে দলীয় এজেন্ডার বলি বানানোর চেষ্টা রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এনসিটিবির এই দায়িত্বহীনতা নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত। শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে। শিশুদের পাঠ্যবইয়ে ৮২টি নৌকার ছবি চাপিয়ে দেওয়ার দায় কার, আর এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না—তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই কলঙ্ক মোচন সম্ভব নয়। সুতরাং জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অন্ধ তোষামোদি, ষড়যন্ত্র ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন এবং সহীহ বুঝ নসিব করুন।

আহসান হাবিব বরুন
সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: [email protected]

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

পাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

পাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

‘বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট’ প্রতিবেদন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

‘বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট’ প্রতিবেদন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট

এনসিটিবির দরপত্রে বড় কারসাজি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপতে মিলেমিশে লুটপাট

নতুন বইয়ের পাশাপাশি জানুয়ারিতে ইউনিফর্ম পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

শিক্ষামন্ত্রী নতুন বইয়ের পাশাপাশি জানুয়ারিতে ইউনিফর্ম পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

পাঠ্যবই ছাপায় নিম্নমানের কাগজ ছাড়, ইনফিনিটি সার্ভেকে শোকজ

পাঠ্যবই ছাপায় নিম্নমানের কাগজ ছাড়, ইনফিনিটি সার্ভেকে শোকজ

চতুর্থ ও ষষ্ঠে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বই

চতুর্থ ও ষষ্ঠে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বই

আরও পড়ুন

শিশুদের পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লার ছবি কেন?

শিশুদের পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লার ছবি কেন?

বিয়েতে প্রতিযোগিতা নয়, চাই দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতা

বিয়েতে প্রতিযোগিতা নয়, চাই দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতা

অর্থনৈতিক বেইনসাফি, শিশু সুরক্ষা ও আলেম সমাজ: সংকট ও উত্তরণের উপায়

অর্থনৈতিক বেইনসাফি, শিশু সুরক্ষা ও আলেম সমাজ: সংকট ও উত্তরণের উপায়

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি নাকি রাজনীতির প্রদর্শনী?

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি নাকি রাজনীতির প্রদর্শনী?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম