মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ এএম
কলতাবাজার এলাকার একটি মেস থেকে জবির এক নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলতাবাজার ওয়াসা পানির পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই নারী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম রাকিবা (২০)। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।
পাশের কক্ষে থাকা সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শৈলী জানান, সারাদিন রাকিবার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাকিবার এক বান্ধবী তার রুমে এসে দরজায় ধাক্কা দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করার পর বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানানো হয়। এরপর নিচতলা থেকে এক যুবক এসে হাতুড়ি দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় রাকিবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর ভাই নাঈম হোসেন জানান, রোববার রাতে পরিবারের সঙ্গে রাকিবার সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি মেসে একাই ছিলেন এবং মাকে জানান, তার শরীর ভালো নেই, পরে কথা বলবেন। এরপর পরিবারের কারও সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তিনি রাকিবার বান্ধবীদের বিষয়টি জানান। এরপর বান্ধবীরা মেসে গিয়ে রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে দরজা ভেঙে রাকিবাকে উদ্ধার করেন।
কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আপাতদৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যা কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এর আগে ঢালাওভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফেরদৌস হাসান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। পুলিশ কাজ করছে এবং পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে ও লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

