পোস্টার লাগানোর অভিযোগে জাবিতে পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা আটক
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে তাকে আটক করেন জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সাইফুল ইসলাম পাবিপ্রবির ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ৩১ জুলাই ঘোষিত পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে মায়ের সঙ্গে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
জাবি শাখা ছাত্রদল সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য শারমিন আক্তার সাথীর একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন সাইফুল। এ নিয়ে কথা বলতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী তার দোকানে যান। সেখানে অভিযোগ অস্বীকার করলে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করা হয়।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, সাইফুলের মুঠোফোনের গ্যালারিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার একটি ছবি পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুঠোফোনের গ্যালারি, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন পর্যালোচনা করে জাহাঙ্গীরনগর ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার সঙ্গেও তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের দাবি, কোরবানির ঈদের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে সোহেল রানার সঙ্গে সাইফুলের কথোপকথন ছিল। এ ছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর আশপাশে সাইফুলকে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, যেসব স্থানে পোস্টার লাগানো হয়েছিল, তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে দেখা যায়। ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল। তিনি বলেন, ‘আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগিয়েছি। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরে কিছু করিনি।’ পাবিপ্রবিতে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাভার থেকে পোস্টার প্রিন্ট করাতাম। গাড়ি দিয়ে পাবনায় পাঠাতাম। সেখানে আমার সংগঠনের লোকেরা পোস্টার লাগাত।’
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, সাইফুল তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কার্যক্রম চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তার মুঠোফোনে পাওয়া কথোপকথন ও ছবির ভিত্তিতে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে।
জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে মুঠোফোন পরীক্ষা করেন। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময় তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

