ইবি প্রশাসনকে তিন দিনের আলটিমেটাম শিবিরের
Advertisement
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ছাত্রদল হলগুলোতেও অবৈধভাবে দলীয় লোকদের উঠিয়েছে। আমরা দেখেছি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবৈধভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে ওঠানো হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কিছু ব্যক্তিবর্গ জড়িত।
তিনি বলেন, গতদিনের ঘটনায় কিছু ব্যক্তির নির্দেশে কোনো উসকানি ছাড়াই আমাদের হল সেক্রেটারির গায়ে হাত তুলেছে ছাত্রদল। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছি। আর কোনো কর্মীর গায়ে যদি হাত দেওয়া হয় তাহলে তার হাতকে আমরা ভেঙে দেব। জিয়াউর রহমান হলসহ যেসব হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের ওঠানো হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি সব অবৈধ শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া না হয়, তাহলে চতুর্থ দিনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে হওয়া বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় রিটেনে নম্বর কমিয়ে ভাইভাতে বাড়ানোর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর আগে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে সংগঠনটির তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, সরকার সব জায়গায় দলীয়করণের জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভাইভাতে অস্বাভাবিক মার্ক বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে চাকরিতে দলীয় কোটায় নিয়োগ দিতে চায়। তারা এভাবে ভাইভার মাধ্যমে দলীয় কোটায় নিয়োগ দিয়ে চাকরির লোভ দেখিয়ে রাষ্ট্রটাকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাকরির লোভ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল। তাদের এই দুরভিসন্ধি আমরা সফল হতে দেব না। যে সব সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে এসেছে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কোনো অনিয়ম সহ্য করব না। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে। অনিয়ম বন্ধ করা না হলে কিভাবে বন্ধ করতে হয় সেটা আমাদের জানা আছে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে আমরা ধৈর্য ধরেছি।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীবান্ধব কাজে মনোযোগী হন, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের দিকে মনোযোগী হবেন না।
