ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় নৌকাবাইচ
Advertisement
পুরান ঢাকা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ এএম
বিভিন্ন রঙের সাজে সুসজ্জিত সব বাইচের নৌকা আর বৈঠার গতি নদীর বুকে যেন তুলেছিল ঝড়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং রাজধানীর সমৃদ্ধ অতীতকে স্মরণে রাখতে ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসাবে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ৩টায় ‘উদ্যাপনে, গর্বে, দায়িত্বে’-এই প্রতিপাদ্যে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর খোলামোড়া ঘাট থেকে নৌকাবাইচ শুরু হয়ে ওয়াইজ ঘাটে এসে শেষ হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে বুড়িগঙ্গার দুই তীরে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ উপস্থিত হন।
বিভিন্ন রঙের সাজে সুসজ্জিত সব বাইচের নৌকা আর বৈঠার গতি নদীর বুকে যেন তুলেছিল ঝড়। নৌকাবাইচের পাশাপাশি সদরঘাট এলাকায় শত বছরের পুরোনো ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয় দর্শনার্থীদের জন্য।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ-সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শেষে সোয়ারীঘাটে নোঙর করা শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম পুরস্কার লাভ করে সংসদ-সদস্য হামিদুর রহমান হামিদের দল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোশারফ হোসেন খোকনের দল এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করে মাদারীপুরের আনিসুর রহমানের দল।
নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌ-চলাচল অবাধ, সচল ও নিরাপদ করতে কাজ করছে সরকার। তিনি নদীর পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা ও ভ্রমণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ‘হৃদয়ে ঢাকা-৪১৬’ উদ্যাপনের অংশ হিসাবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করায় ডিএসসিসি প্রশাসক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান।
সংসদ-সদস্য হামিদুর রহমান বলেন, এখন থেকে নৌকাবাইচ প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলেই নগরীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হবে। আর সেই ভালোবাসা থেকেই পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ সফল হবে।
