১২ দফা দাবিতে হাজারীবাগে রিকশাশ্রমিকদের বিক্ষোভ
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
কর্মসূচি সফল করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সব গ্যারেজ ও রিকশা বন্ধ রেখে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের লাইসেন্স ও যৌক্তিক রুট পারমিট প্রদান, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও হয়রানি বন্ধসহ ১২ দফা দাবিতে রাজধানীর হাজারীবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন রিকশাশ্রমিকেরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের হাজারীবাগ থানা কমিটির উদ্যোগে হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ বউবাজার এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার রিকশাচালকেরা অংশ নেন। কর্মসূচি সফল করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সব গ্যারেজ ও রিকশা বন্ধ রেখে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কোন সড়কে কতসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষা ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকেরা কর্মসূচিতে জড়ো হতে থাকলে পুলিশ তাদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করে দেয়। পরে বেড়িবাঁধ বউবাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর ও শংকর এলাকা ঘুরে রায়বাজারে শহীদ জিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন গ্যারেজের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা অটোরিকশা চালানো ও চার্জ দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। ব্যাটারিচালিত যানবাহন যান্ত্রিক বাহনে পরিণত হওয়ায় এসব যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে, অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু শ্রমিকেরা শুরু থেকেই বিআরটিএর আওতায় লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। সড়কের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় কোন সড়কে কতসংখ্যক রিকশা চলবে এবং কোথায় চলাচল অনুমোদিত হবে, তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র শ্রমিকেরাও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন।
বুয়েটের তৈরি অটোরিকশার সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত যানবাহনের তেমন পার্থক্য নেই বলেও দাবি করেন আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে সরকারিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে, যাতে চালকেরা নিয়ম মেনে সড়কে চলাচল করতে পারেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চার্জিং গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তাদের কাজ ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা আইনানুগভাবে নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জুলুম-নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ এবং রেকার ও ডাম্পিংয়ের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সড়কে লেন পদ্ধতি সচল করা, সার্ভিস লেন ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে নীতিমালা প্রণয়ন। এ ছাড়া শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, যানবাহনকে গণপরিবহণ ও শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিদ্যমান গ্যারেজগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
প্রস্তাবিত ১২ দফা দাবি হলো—
১. দেশের সড়ক উপযোগী নকশায় ব্যাটারিচালিত যানবাহন আধুনিকায়ন করে বিআরটিএর মাধ্যমে লাইসেন্স ও যৌক্তিক রুট পারমিট দিতে হবে।
২. ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে।
৩. ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলের বিষয়ে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৪. শ্রমিকদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে বৈধ বিদ্যুৎ মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বন্ধ করতে হবে।
৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন করতে হবে।
৬. সড়কে লেন পদ্ধতি সচল করে সার্ভিস লেন ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে।
৭. ব্যাটারিচালিত যানবাহনসংক্রান্ত সব রিট দ্রুত নিষ্পত্তি এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৮. শ্রমিকদের জীবিকা সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৯. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন ও শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বিদ্যমান গ্যারেজগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে।
১০. অসাধু বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে রিকশার যন্ত্রাংশসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতে হবে।
১১. শ্রমিকদের জন্য রেশনব্যবস্থা চালু করতে হবে।
১২. দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক বাস্তবতা বিবেচনায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনে বিনিয়োগ করা পুঁজি সুরক্ষিত রেখে পর্যায়ক্রমে মানুষকে প্যাডেলচালিত বাহন চালানোর কষ্টসাধ্য শ্রম থেকে মুক্ত করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, হাজারীবাগ থানা কমিটির সভাপতি সুমন মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।

-6acb79f55bb51.jpg)
