উস্তাদ-বন্ধুদের দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা মাদ্রাসাশিক্ষক
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বন্ধু-বান্ধব, উস্তাদ এবং পরিচিত ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা এক মাদ্রাসাশিক্ষক। ঘটনাটি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার। তবে পলাতক ওই শিক্ষকের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার মন্দিরঘোনা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ইউনুস আলী।
জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকে ইউনুস আলী ঢাকায় থাকতেন। পড়াশোনা শেষ করে যাত্রাবাড়ী আল মারকাযুল ইলমি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। মতিঝিলে তার বন্ধু তৌহিদের দোকানে আসা যাওয়া করতেন। দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে অনেকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে।
মাঝে মাঝে বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। সময়মতো পরিশোধও করতেন। মাদ্রাসার মোহতামিম মিজানুর রহমানের কাছেও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন ইউনুস। তার উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সঙ্গেও ছিল সুসম্পর্ক।
এভাবে ভালো ব্যবহার দিয়ে বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ইউনুস। কারও কাছ থেকে এক লাখ দুই লাখ বা তারও বেশি। এভাবে নিতে নিতে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে যান। একজনের আড়ালে অন্যজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ইউনুস।
যাত্রাবাড়ী আল মারকাযুল ইলমি মাদ্রাসার মোহতামিম মিজানুর রহমানের কাছ থেকে নিয়েছেন ২৭ লাখ টাকা, আল আমিন ইসলাম প্রান্তর কাছ থেকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার, ইউনুসের উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলামের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা। এভাবে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। গত কিছু দিন ধরে টাকা চাইলে টালবাহানা শুরু করেন ইউনুস।
অবশেষে সব পাওনাদারকে গত ৩০ অক্টোবর টাকা দেবেন বলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান ইউনুস আলী। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। স্বর্ণের ব্যবসার কথা বলে ঢাকা এবং ধোবাউড়ার বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন তিনি। যারা টাকা দিয়েছেন বেশিরভাগ আলেম ব্যক্তি। অনেকে তাকে টাকা দিয়ে ফকির হয়েছেন।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী আল-মারকাযুল ইলমি মাদ্রাসার মোহতামিম মিযানুর রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এদিকে প্রায় ২০ জন পাওনাদার শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ইউনুসের এলাকায় আসেন। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদ তালুকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানের কাছে টাকার বিষয়টি তারা অবগত করেন। তখন তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান।
এদিকে ইউনুসের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন সব পাওনাদার। তবে তার বাবা আবুল কাশেম বলেন, টাকার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
এ ব্যাপারে ইউনুসের উস্তাদ মুফতি শামসুল ইসলাম বলেন, আমি ইউনুসকে দুধকলা দিয়ে লালন পালন করেছি। সে আমার ১৩ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
বন্ধু তৌহিদ বলেন, সে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের স্ট্যাম্পে আমার নাম দিয়ে জামিনদার বানিয়ে দিয়েছে।
