ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলের মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার সোনাতলায় ট্রেনে কাটা পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রসহ মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময় পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করছিল। আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জের বরিয়াহাট কুকি কালিদাস গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি (৩৩) ও তার ছেলে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলার টিএম মেমোরিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত (১০)।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রবিউল ইসলাম ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি প্রতিদিন বাড়ি থেকে ছেলে ইয়াসিন আরাফাতকে পাশের সোনাতলার টিএম মেমোরিয়াল স্কুলে নিয়ে যেতেন। রুজিনা কয়েকদিন আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা দোহাইল গ্রামে বাবা আবুল তালেবের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
রুজিনার মামা আবু সাঈদ জানান, তার ভাগিনি প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাতলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ঘনকুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় সান্তাহার ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। তখন ট্রেনে কাটা পড়ে মা রুজিনা আকতার রনি ও ছেলে স্কুল ছাত্র ইয়াছিন আরাফাতের মৃত্যু হয়। তারা আত্মহত্যা করেননি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পদ্মরাগ ট্রেন অতিক্রম করার সময় মা ও ছেলে রেললাইনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চিৎকার করলেও তারা রেললাইন থেকে সরে যাননি। এ সময় ট্রেন এলে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়।
বগুড়ার সোনাতলা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।
বগুড়ার রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল জাহেদ জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে ওই মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। এরপরও তদন্ত করলে এটি আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ব্যাপারে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এদিকে দুদিন আগে শুক্রবার বিকালে পুলিশ বগুড়ার সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নের শিচারপাড়া গ্রামে বাড়ির শয়ন ঘর থেকে গৃহবধূ চায়না বেগম (৩৫) ও তার সপ্তম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী খাদিজা খাতুনের (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে গৃহবধূর বাবা তারাজুল ইসলাম সোনাতলা থানায় জামাই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। যদিও ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও শিচারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কামরুজ্জামান রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে রয়েছেন।

