প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রত্যয়নপত্রের জন্য অর্থ আদায়ের অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ এএম
ডাকরখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন/ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ডাকরখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রত্যয়নপত্র বিতরণ ও শ্রেণি উত্তরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযোকারী ও অভিভাবক মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা। তিনি জানান, গত রোববার (৪ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার নামে প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। নির্ধারিত এই অর্থ পরিশোধ না করলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্যান্য শ্রেণির অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে গ্রহণ করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হচ্ছে। অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি শিক্ষা বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিভাবকদের অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তারা জানান, প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নামে একটি সংগঠন গঠন করেন এবং নিজেই এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি এর আগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় শাস্তি ভোগ করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ মে সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বাসায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল চলাকালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ওই প্রধান শিক্ষক হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে দায়ের করা মামলায় মো. সাঈদ হোসেন ৩৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদ হোসেন অভিযোগ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। পাঁচ বছর বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার সময় অনেকে খুশি হয়ে কেউ ১০০, কেউ ২০০ টাকা দিয়েছে। আমি কারো কাছ থেকে জোর করে বা চেয়ে টাকা নেইনি। অথচ শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিটি সনদপত্র ২০ টাকা করে কিনে আনতে হয়। ইউএনও মহোদয় ডাকলে আমি লিখিতভাবে আমার বক্তব্য দেব।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, সব বিদ্যালয়ের সনদপত্র একই ধরনের করার জন্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী ছাপানো হয়েছে। প্রতিটির খরচ ১০ থেকে ১২ টাকার মতো। কেউ যদি ২০ টাকা নেয়, তা সামঞ্জস্য হতে পারে। এর বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা অফিস থেকে ২০ টাকা করে সনদপত্র বিক্রি করা হয় না।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমার নজরে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের এমন অভিযোগ শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
