টেনিস তারকা খইখই মারমার জন্য ঘর নির্মাণ
সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি সহায়তায় নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের টেনিস তারকা খইখই সাই মারমার ঘর। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, খইখই সাই টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের চুশাকপাড়ার ক্যহ্লাখই মারমার মেয়ে। খইখই টেবিল টেনিসে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসে দ্বৈত ইভেন্টে রৌপ্যপদক জিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য এনে দেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, খইখই মারমাকে ঘর নির্মাণ করে দিতে ২৪ জানুয়ারি রাজস্থলীর পাইনপাড়ায় প্রস্তাবিত জায়গা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী; কিন্তু জায়গাটি নিচু এবং জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় হওয়ায় সেখানে না করে খইখইয়ের গ্রামের বাড়ি চুশাকপাড়ায় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক। এদিন তিনি দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে রাজস্থলীর চুশাকপাড়ায় খইখই সাই মারমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন।
খইখই সাই মারমা বলেন, প্রশাসন থেকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) জেলা প্রশাসক রাজস্থলী গিয়ে উপজেলা সদরের পাইনপাড়ায় আমাদের একটি জায়গা পরিদর্শন করেন। কিন্তু সেই জায়গাটির কিছুটা সমস্যার কারণে আমাদের গ্রামের বাড়ি চুশাকপাড়ায় ঘরটি তৈরি করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া গ্রামের রাস্তাটি নির্মাণে একটি প্রকল্প দ্রুত হাতে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক খইখই সাই মারমার আবেদনে তার পৈতৃক জায়গায় ঘর নির্মাণের বিষয়ে পরিদর্শন করে গেছেন। তবে খইখই যেখানে ঘর তৈরি করে দিতে বলবেন সেখানে করে দেওয়া হবে। এটা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, খইখই সাই মারমা শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নন, তিনি পাহাড়ি এলাকার সম্ভাবনা ও প্রতিভার প্রতীক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তার এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য রাঙামাটিসহ সারা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তার এ সাফল্য পাহাড়ি অঞ্চলের নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবল থাকলে যে কোনো প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা সম্ভব, যার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ খইখই সাই মারমা।
