সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ সাজেকে খাদ্যসংকটের শঙ্কা, পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ
Advertisement
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সশস্ত্র সদস্যদের সরানো, সন্ত্রাস বন্ধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে টানা সাত দিন ধরে সড়ক অবরোধ চলছে।
বুধবারও সাজেকের গঙ্গারাম, মাচালঙ, ১৪ কিলো, হাজাছড়াসহ সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
এতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে কৃষিপণ্য নিতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জুমচাষিরা। আয় বন্ধ হয়ে ধারদেনায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে তৃতীয় দফায় গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ চলছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় পর্যটকেরা এলাকা ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে পাঁচ দফার চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এরপর আর যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। পাঁচ দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে নিতে বুধবার দুপুরে গঙ্গারাম এলাকায় সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
২৫ অক্টোবর সরকারি প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য শান্তি বিজয় চাকমা জানান, পরদিন ২৬ অক্টোবর বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকা হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর তাদের আর কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রয়োজন হলে ডাকা হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা বলেন, বাসিন্দারা ঘরে মজুত খাবার দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। রুইলুই পাড়ার পাঁচটি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও শেষের পথে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান ও ইউপি সদস্য জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, যান চলাচল বন্ধ থাকায় কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া ও কচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। এতে পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্যেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমার দাবি, সাজেকে চলাচলকারী দেড় হাজারের বেশি যানবাহনের চালক ও সহকারীরা আয় হারিয়েছেন। পরিবহণ খাতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।
এদিকে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধ চলছে, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
