Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ

Icon

এটিএম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ

উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এই ঈদগাহ ময়দান। 

চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

এবারের ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ জামাতে জাতীয় অগ্রগতি-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সংহতি কামনা করে মোনাজাত করা হবে।

বিপুলসংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতির কারণে উপমহাদেশে এ সর্বপ্রাচীন ও বৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত শুরুর বার্তা পৌঁছাতে রীতি অনুযায়ী বন্দুকের তিনটি গুলি ছোড়া হয়ে থাকে।

স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যসহ কিশোরগঞ্জের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার জামাত আদায় করবেন।

এ জামাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৬-৭ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়ে থাকেন। ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের জামাত উপলক্ষে মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন আসা-যাওয়া করবে।

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর উত্তর পার্শ্বের বিস্তীর্ণ তীরজুড়ে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের অবস্থান। ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর ইয়ামেন থেকে আসা শোলাকিয়া জমিদার বাড়ির পূর্ব পুরুষ সুফি সৈয়দ আহমেদের হাতে ঐতিহাসিক এ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গোড়াপত্তন ঘটে।

ইসলাম ধর্মপ্রচারক সুফি সাধক সৈয়দ আহমেদের ইমামতিতেই উপমহদেশের এ সর্বপ্রাচীন ও বৃহৎ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রথম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ওই জামাতের কাতার গণনায় ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ মুসল্লির উপস্থিতির কথা জানা যায়। আর তখন থেকে এ ঈদগাহ ময়দানটি সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দানের নামের স্বীকৃতি পায়। 

পরবর্তী কালে দিনে দিনে উচ্চারণ বিবর্তনের ফলে এক সময় সোয়া লাখিয়া থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসাবেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠে এ ঈদগাহ ময়দানটি। লাখ-লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এক সঙ্গে জামাত আদায় করায় এক সময় এক শ্রেণির দরিদ্র মানুষের কাছে ঈদগাহ ময়দানটি গরিবের মক্কা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে ওঠে। 

এ কারণে সুদীর্ঘ কাল থেকেই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের  ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে সরকার ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া লাখ-লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটায় রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর আগে বন্দুকের (বর্তমানে শটগানের) ফাঁকা গুলি ছুড়ে সবাইকে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংকেত দেওয়া হয়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামের ঐশী বাণী প্রচারের জন্য সুদূর ইয়ামেন থেকে আগত শোলাকিয়া ‘সাহেব বাড়ির’ পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আহমেদ তার নিজস্ব তালুকে ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর উত্তর তীরে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। ওই জামাতে ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমেদ নিজেই।

অনেকের মতে, মোনাজাতে তিনি মুসল্লিদের প্রাচুর্যতা প্রকাশে ‘সোয়া লাখ’ কথাটি ব্যবহার করেন। মতান্তরে, কাতার গণনায় সেদিনের জামাতে ১ লাখ ২৫ হাজার (সোয়া লাখ) মুসল্লির উপস্থিতির কথা জানা যায়। উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন এ ঈদগাহ ময়দানে সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের খবর দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে দেশি-বিদেশি লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল নামতে শুরু করে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম