মণ্ডপজুড়ে হারানো গ্রামবাংলার মুগ্ধতা
Advertisement
এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢেঁকিতে ধান ভানা, গোবর দিয়ে ঘুঁটে তৈরি, কুলায় ধান ঝাড়া, বাঁশের তৈরি শিল্পসামগ্রী, বাবুইপাখির বাসা, মাছ রাখার খালুই, গরু আর খড়ের গাদা-গ্রামবাংলার চিরচেনা এমন সব অনুষঙ্গে সাজানো হয়েছে দুর্গাপূজার মণ্ডপ। কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকার গঙ্গাসাগর দেব সরকার বাড়ির ‘পল্লীকথা’ মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার শাশ্বত গ্রামীণ জীবনের ছবি। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিম নারী-পুরুষ। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতিকে ঘিরে এমন আয়োজন দুর্গোৎসবের সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
মণ্ডপটির রূপকার গৌতম চন্দ্র সরকার যুগান্তরকে বলেন, দেবীর আগমন ও বিসর্জনের মধ্যেও বিশেষ বার্তা থাকে। এবার পল্লির প্রাণ-প্রকৃতি ও শান্তিময় সমাজের রূপ তুলে ধরে দেবীকে বিশেষ অঞ্জলি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার দেবীর আগমন ঘোটকে। শাক্তমতে, ঘোটকে দেবীর আগমনকে অশুভ বা ছত্রভঙ্গের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কিংবা যুদ্ধের আশঙ্কার ইঙ্গিত বহন করে। দেবীর কৃপা ও শুভদৃষ্টি লাভের প্রত্যাশায় তাদের পরিবারের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন।
‘পল্লীকথা’ মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘শিকড়ে ফেরা’। শহুরে চাকচিক্যের ভিড়ে মানুষ যেন গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনকে ভুলে না যায়, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। এখানে রাজপ্রাসাদের বদলে মাটির ঘর, কৃত্রিম উপকরণের বদলে মাটির প্রতিমা, ডিজের বদলে ঢাকের শব্দ আর বাহারি খাবারের বদলে খিচুড়ি ভোগের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও প্রকৃতির পরিচয় তুলে ধরাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গৌতম সরকার আরও বলেন, নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে সরকার, সংসদ-সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা তাদের আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এবারই প্রথম বত্রিশ এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ-সদস্য মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এলাকা এবং অধিকসংখ্যক পূজামণ্ডপের অবস্থান বিবেচনায় গঙ্গাসাগর দেব সরকার বাড়ির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা নিবিড়ভাবে সহযোগিতা ও তদারকি করছেন।
