বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে নারীর মৃত্যু
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার আদমদীঘিতে বড় বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় নিহতের বোন, বোনের স্বামী ও তাদের দুই সন্তান আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ার পথে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজ্জ্বলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার বিকালে আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমি থানায় প্রতিবেশী কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে এজাহার নামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী কয়েকদিন আগে ঈদের দাওয়াতে আদমদীঘির উজ্জ্বলতা গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তার বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমির সঙ্গে প্রতিবেশী কহির ফকির, তার ভাই হেলাল ফকির ও সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর উম্মে হাফিজা সুমি ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়।
এ ব্যাপারে হাফিজা আদমদীঘি থানায় একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর পর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে হাফিজার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উম্মে হাফিজা সুমি, উম্মে হাবিবা উর্মি ও অন্যরা ঈদের কেনাকাটা করার জন্য আদমদীঘি উপজেলা সদরের মার্কেটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তাদের ওপর হামলা করেন। মাথায় কুড়ালের আঘাতে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার স্ত্রী হাফিজা, মেয়ে নুসরাত, ছেলে ফারসিদ ও ছোট বোন উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
প্রাণ বাঁচাতে নুসরাত ও উর্মি স্থানীয় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে ঢুকেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মাথা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আহত হন উম্মে হাবিবা উর্মি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলামকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
মামলার বাদী উম্মে হাফিজা সুমি জানান, ছোট বোন উর্মি গত ১৫ দিন আগে ঈদ উদযাপনের জন্য তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। এখানে প্রতিপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় চারজন আহত হয়েছেন। তিনি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
