চুয়াডাঙ্গায় নারীর সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কৌশলে এক নারীকে দিয়ে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর বেলেদাড়ী মাঠের একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা খাতুন, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম আলী, শাহজাহান আলী এবং পার্শ্ববর্তী শিয়ালমারী গ্রামের আবদুস সালাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা খাতুন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ২৫ মার্চ রাতে কবিতা খাতুন ভুক্তভোগীকে ফুঁসলিয়ে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে নিয়ে আসেন। সেখানে আগেই অবস্থান করছিল কবিতার খালাতো ভাই আবদুস সালাম। সে আরেকটি ইজিবাইকে ওঠে।
কবিতা খাতুন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন। পরে তারা রাত ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর বেলেদাড়ী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেয়।
এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভুক্তভোগীকে পাশের জনৈক খসরুর আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আবদুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শাসিয়ে দেওয়া হয়।
পরে ওই রাতেই কবিতা খাতুন ও ভুক্তভোগী নারীকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে নামিয়ে দিয়ে যায় আসামিরা। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
শুক্রবার থানা পুলিশ মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। শনিবার ভোরে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর সকালে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী।
এরপর বিকাল ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের পুরো ঘটনা অবহিত করেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ৬ আসামির সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
