ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েলের মজুত তলানিতে
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আর চালান দেশে আসেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মজুদ তলানিতে রয়েছে। আমদানির শিডিউল বিপর্যয় ঘটায় শোধনাগারটির মূল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইআরএল সূত্র জানায়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এরইমধ্যে দুটি জাহাজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানরইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য প্রায় দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি ১ লাখ ৮ হাজার টন লোড করেও সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে রওনা দিতে পারেনি। অন্য একটি জাহাজ তেল লোড করতে গন্তব্যেই যেতে সক্ষম হয়নি। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে ক্রুড অয়েলের একটি চালান আনার চেষ্টা চলছে। তবে তা দেশে পৌঁছাতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। সাধারণত প্রতি দুই মাসে ক্রুড অয়েলের দুটি জাহাজ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু গত এক মাসে নতুন কোন চালান আসেনি। ফলে ফুরিয়ে আসছে ইআরএল’র কাঁচামালের মজুত। এরইমধ্যে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার হাজার টন থেকে উৎপাদন কমিয়ে ৩ হাজার ৩০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেল মজুত আছে প্রায় ২০ হাজার টন। তা দিয়ে বড়জোর ৫-৭ দিন উৎপাদন চালানো যাবে। এর পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল থেকে ডিজেল, এলপিজি গ্যাস, পেট্রোল, ন্যাপথা, জেট ফুয়েল, বিটুমিন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। যার ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশই থাকে ডিজেল।
ইআরএল এর উপব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ খান জানান, কাঁচামালের নতুন চালান না এলে ৫ এপ্রিলের দু-একদিন আগে-পরে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিদেশ থেকে সহসা ক্রুড অয়েলের নতুন চালান আসার সম্ভাবনা নেই। তবে মাতারবাড়ি থেকে এসপিএম প্রকল্পের প্রায় ৩-৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল আনার চেষ্টা চলছে। তা দিয়ে দু’একদিন বেশি সময় প্ল্যান্ট চালানো যেতে পারে।
দেশের মোট বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা রয়েছে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর ২০ শতাংশেরও কম ইআরএলে পরিশোধিত হয়। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরাসরি পরিশোধিত তেল হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক তেল শোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৫ দশমিক ৩৩ লাখ টন শোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই হিসাবে শোধনাগারটি পূর্ণ মাত্রায় সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েলের প্রয়োজন হয়। মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই অপরিশোধিত তেল আমদানি করে বিপিসি। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

