একদিনে লাকসামে ১০ শিশু ও ১ বৃদ্ধাকে কুকুরের কামড়
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার লাকসামে একদিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ জন শিশু ও একজন বৃদ্ধ মহিলা রয়েছেন।
সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কেউ বাড়ি ফিরে গেছেন, আবার কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার বিকাল ৫টায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম।
বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে আহতরা হলেন- পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও বাগিচাপাড়ার বাসিন্দা মোকসেদ আলীর মেয়ে সিজরাতুল মোনতাহার (৬), উপজেলা হামিরাবাগ এলাকার জানে আলমের মেয়ে আনিকা (৭), কান্দিরপাড় ইউনিয়ন ছনগাঁও গ্রামের জাকির হোসেন মেয়ে ওমরা (৭), একই গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে আয়ন (৬), সোহাগ মিয়ার মেয়ে নুসরাত (৫), কান্দিরপাড় গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে রাইসা (১০), সুজন মিয়ার মেয়ে আয়া (১৬ মাস), পৌর শহরে পশ্চিমগাঁও এলাকার জসিমর মিয়ার মেয়ে মিম (১২), জহিরের ছেলে আরিফ (২), সেকান্দর আলীর মেয়ে মমিনা খাতুন (৭০) ও সাতবাড়ীয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দিরপাড়, হামিরাবাগ, সাতবাড়ীয়া, মুদাফরগঞ্জ বাজার, মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন শ্রীয়াং, আউশপাড়া, ভাকড্যা, লাকসাম পূর্ব ইউনিয়ন নরপাটি, বাকই দক্ষিণ ইউনিয়ন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন গ্রামগুলো এবং পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিভিন্ন রঙের পাগলা কুকুর বেপরোয়া আচরণ করে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়েছে। এভাবে সকাল ৫টা থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের সামনে দোকানদার মুখছেদ আলী বলেন, বুধবার বিকালে মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় আমার মেয়ের মাজায় কুকুর কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিনে রাতে এই এলাকায় ১২-১৫টি কুকুর একত্রে দল বেঁধে ঘোরাফেরা করে। রাস্তাঘাটে কুকুরের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের দেখে ঘেউ ঘেউ করে কামড়াতে আসে। যেখানে সেখানে কুকুরের অবাধ বিচরণ। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের জন্য এখন বেওয়ারিশ কুকুর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পথচারী থেকে শুরু করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সাংবাদিক কামাল উদ্দিন বলেন, রাস্তাঘাটে এমনকি বাসাবাড়ির সামনে যত্রতত্র অসংখ্য কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। এতে আতঙ্কে পথ চলতে হয়। অন্যদিকে অনেক রোগাক্রান্ত কুকুর ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানপাটের সামনে বসে থাকে। এমনকি খাদ্যদ্রব্যে মুখ দেয়, যা বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসক মোজ্জাকের হোসেন বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর বিপজ্জনক হলেও সঠিক ব্যবস্থা থাকলে প্রাণহানি বা ক্ষতির শঙ্কা কমানো সম্ভব। কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি রোধে কুকুরের শরীরে টিকা দেওয়া যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কুকুর নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে প্রায় বছর ধরে নিধন কর্মসূচি আপাতত বন্ধ রয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পেইন করা হবে।
