‘স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি, তার বাবাকে খবর দাও’
Advertisement
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর প্রতিবেশী এক নারীকে ফোন দিয়ে নিহতের বাবাকে লাশ নিয়ে যেতে বলেন স্বামী। ঝর্ণা নামের ওই গৃহবধূকে হত্যার পর ঘরে লাশ রেখে প্রতিবেশী এক নারীকে ফোন করে তিনি বলেন, ঝর্ণাকে মেরে ফেলেছি। তার বাবাকে একটু খবর দাও, লাশ নিয়ে যেতে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা গ্রামের মাসুদ রানার বাড়ির দোতলা ঘরের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
ঝর্ণা আক্তার (১৬) শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের মো. হামিদুল ইসলামের মেয়ে। নিহতের স্বামী অপু আহমেদ পেশায় বাসচালক।
ঝর্ণার বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে পরিবারের অজান্তে অপু নামের এক ছেলেকে বিয়ে করেন ঝর্ণা। বিয়ের পর থেকেই সে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। আমরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। পৌরসভার আনসার রোড এলাকায় আমি ব্যবসা করি।
তিনি আরও বলেন, রাত ১০টার দিকে পাশের এক দোকানি জানান, আপনার মেয়ে ঝর্ণা মারা গেছে। খবর শুনে দৌড়ে ভাড়া বাসায় আসি। এসে দেখি ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।
বাড়ির মালিক মাসুদ রানা বলেন, শনিবার রাতে প্রতিবেশী তানিয়া নামের একজনের মোবাইলে ফোন করে ঝর্ণার স্বামী অপু। ফোনে সে জানায়, স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি। তার বাবা-আত্মীয়স্বজনদের খবর দাও লাশ নিয়ে যেতে। এমন ফোন পেয়ে তানিয়া বাসায় এসে বিষয়টি জানায়। বেশির ভাগ সময় তাদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকত। যে কারণে তাদের বিষয়ে জানা সম্ভব ছিল না। দরজা খোলার পর দেখা যায়, ঘরটিতে প্রচুর মাদক সেবন হতো।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভেতর মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে ঝর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে। স্বামী পলাতক। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

