সংরক্ষিত নারী আসনে লড়ছেন দুই বোন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটযুদ্ধে নেমেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী তালুকদার পরিবারের দুই বোন। সংরক্ষিত নারী আসন কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই বোনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এ ধরনের প্রতিযোগিতা এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহল ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির প্রয়াত সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী ও ভাতিজী সাদিয়া হক উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে নির্বাচনি লড়াইটি এখন যোগ্যতার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে দুই বোনই সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা উভয়েই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন তার মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী। বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য পদে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন; কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটি হবে একজন নিবেদিত নেতার অবদানের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
অন্যদিকে জানা যায়, সাদিয়া হক আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে গিয়ে জেল খেটেছেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই তার প্রধান শক্তি।
এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক, যেখানে একই পরিবারের মধ্যেও মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এতে পারিবারিক সম্পর্কে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনি পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে জানান, তিনিও অনেকের কাছে শুনেছেন তারা দুই বোন মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়ন যিনিই পান না কেন, সিদ্ধান্তটি যেন যোগ্যতা, ত্যাগ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়। আর আমাদের কাছে তো কোনো মতামত চাওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারাই বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।
এ বিষয়ে সালিমা তালুকদার আরুণী যুগান্তরকে জানান, আমি জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাবা যখন জীবিত ছিলেন তখন অনেক রাজনৈতিক নির্যাতন বাবার সঙ্গে আমাদের ভোগ করতে হয়েছে। তাই আশাবাদী দল তাকে সঠিক মূল্যায়ন করবে। আর যদি তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে নারী শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ, যৌতুক প্রথা বন্ধসহ পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একই পরিবারের দুই বোন প্রার্থী এটা তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কারণ বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। এতে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব কিংবা ঐতিহ্য বিনষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোপরি আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি তিনি মেনে নেবেন।
সরিষাবাড়ীর এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
