‘বিদায় পৃথিবী, বিদায় আমার প্রিয় স্ত্রী’
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লাকসামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ইস্রাফিল রাহাত মজুমদার (১৯) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে লাকসাম পৌর শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রাহাত মজুমদার উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়ন কান্দিরপাড় গ্রামের মোহন মিয়ার বাড়ীর দুলাল মিয়ার ছেলে।
মৃত্যুর আগে রোববার (২০ এপ্রিল) দিবাগত-রাত ২টায় দিকে Israfil Rahad নামে নিজের ফেসবুকে আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টে ইস্রাফিল রাহাত মজুমদার তার স্ত্রী বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
তিনি লেখেন- ‘বিদায় পৃথিবী, বিদায় আমার প্রিয় স্ত্রী, ভালো থেকো সুখে থাকো, তোমরা আমার সঙ্গে যেইটা করছ তার ফল একদিন তোমরা ঠিকই পাবা, আমার মায়ের বুক খালি করতেছো তোমরা, একদিন আল্লাহ তোমার এবং তোমার মায়ের বুক খালি করবে, আল্লাহ্ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না- কথাটা মনে রেখ।’
আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, খুব শিগগিরই চমক দেখবে, এখনো বেঁচে আছি কিন্তু আর বেশিক্ষণ বেঁচে থাকব না।’
এছাড়াও পোস্টে তিনি স্ত্রী অন্তরা ও শাশুড়িসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ‘তুমি যদি আমার সঙ্গে রাত ১২টার মধ্যে কথা না বলো- তাহলে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেব এবং নিজেও আত্মহত্যা করব আর আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবা তুমি আর তোমার মা।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ বছর আগে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের হাউজিং সংলগ্ন অলি উল্লাহ মেয়ে অন্তরা আক্তারের সঙ্গে রাহাতের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স প্রায় দুই বছর। অন্তরার আগের সংসারের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে রাহাত মজুমদার তার শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং লাকসামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওটি বয় হিসেবে চাকরি করতেন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রী এবং শাশুড়ির মানসিক চাপের কারণে রাহাত মজুমদার রাতে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। পরে সোমবার সকাল ৬টায় রাহাতের শ্বশুরবাড়ির পাশে অচেতন অবস্থায় রাহাতকে পড়ে থাকতে দেখেন তার শাশুড়ি কুলসুম বেগম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
মৃত ইস্রাফিল রাহাত মজুমদারের মা জোছনা বেগম জানান, ছেলের বউ ও শাশুড়ি আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমি থানায় যাচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।
এদিকে সোমবার ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা এখন রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি মাকসুদ আহম্মদ বলেন, লাশের সুরহতাল করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরে রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
