বাড়িকে মুদি দোকান দেখাতে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপ, পালটাপালটি অভিযোগ
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২০ পিএম
বাড়িকে মুদি দোকান দেখাতে তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আবেদনকারী টিসিবির ডিলারের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি বসতবাড়ি মুদি দোকান দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিবাদে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দার সারিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আবার আবেদনকারী ডিলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
থানায় সাধারণ ডায়েরি সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মেসার্স যমুনা এন্টারপ্রাইজের মালিক আনোয়ার হোসেন ওই ইউনিয়নের টিসিবিবির ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের ভিত্তিতে এর তদন্তভার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দারকে দেওয়া হয়। তিনি গত ২৫ মার্চ ডিলারের প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন করে তিনি দেখতে পান, সেখানে কোনো মুদি দোকান নেই। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনের কথা শুনে আনোয়ার হোসেনের ছেলে জিল্লুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার (আরডিও) অফিসে যান। তিনি অফিসে গিয়ে আরডিওকে তার বসতবাড়িকে মুদি দোকান হিসেবে দেখিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তার পক্ষে রিপোর্ট না দেওয়ায় জিল্লুর রহমান আরডিও কর্মকর্তার কাছে তথ্য অধিকার আইনে অফিসের যাবতীয় তথ্য চেয়ে আবেদন করেন।
অন্যদিকে আবেদনকারী ডিলার আনোয়ার হোসেন একই ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেখানে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিলার নিয়োগে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক উল হায়দার বলেন, জিল্লুর রহমান একটি বসতবাড়িকে মুদি দোকান হিসেবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিয়েছেন। মূলত তারা গ্রামেই থাকেন না। তারা বগুড়া শহরের সাবগ্রাম রেলগেট এলাকায় বসবাস করছেন। মিথ্যা রিপোর্ট না দেওয়ায় তিনি ছুটিতে থাকলেও গত ৮ এপ্রিল তার অফিসের নামে ইউটিউব চ্যানেলে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে মানহানি করেছেন।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনাসমূহ তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি অযোগ্য প্রার্থীকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে উভয়ের দেওয়া অভিযোগ তদন্তানাধীন রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
