Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশু, ১২ দিনেও গ্রেফতার হয়নি শিক্ষক

Icon

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ধর্ষণে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশু, ১২ দিনেও গ্রেফতার হয়নি শিক্ষক

অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর। ফাইল ছবি।

Advertisement

নেত্রকোনার মদনে এক শিক্ষকের ধর্ষণে ১১ বছরের মাদ্রাসার শিশু ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে ভুক্তভোগীর মা একটি মামলা করেন। মামলার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও ওই শিক্ষক এখনো গ্রেফতার হননি।

আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের  মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

এ নিয়ে সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমপি লুৎফুজ্জামান বাবর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালে মদন উপজেলার পাঁচাহাড় গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন সাগর। মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। এই মাদ্রাসায় আশপাশে এলাকার মেয়েরা লেখাপড়া করত।  

একই এলাকার বাসিন্দা স্বামীহারা ওই মহিলার একমাত্র সন্তান ভুক্তভোগী শিশুটি। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশু নানির কাছে থেকে ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। এর মধ্যে গত বছর নভেম্বর মাসে সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনা কাউকে না জানাতে শিশুটিকে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সাগর। পরে তার আরেক শিক্ষককে বলে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করা হয়।  পাচঁ মাস পার হওয়ার পর শিশুর শারীরিক পরিবর্তন আসে। সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে মায়ের বাড়িতে আসে এবং কিভাবে সে অন্তঃসত্ত্বা হলো তা জানতে তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করে। একপর্যায়ে মেয়েটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাগরের দ্বারা ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে জানায়।

ঘটনা জেনে বিচার চাইতে শিশুটির মা এলাকায় আসেন। সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উলটো তাদের হুমকি দেওয়া এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে। পরে ২৩ এপ্রিল মেয়েটির মা মদন থানায় সাগরকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন।

এ ব্যাপারে শিশুটি জানায়, মাদ্রাসা ছুটি হলে হুজুর আমাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে বলে। একপর্যায়ে মসজিদের কক্ষে আমাকে নিয়ে যায় এবং সেখানেই আমাকে ধর্ষণ করে। আমি এর বিচার চাই।  

এ ব্যাপারে শিশুটির মা বলেন, আমি গরিব মানুষ, সিলেটে কাজ করে খাই। বাড়িতে এসে একসঙ্গে ঘুমাতে যাই। পরে মেয়েকে বলি, মা তোমার পেট বড় কেন? তখন মেয়েটি জানায়, ওই শিক্ষক তার এ ক্ষতি করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মদন থানায় একটি মামলা করেছি। মামলার ১২ দিন পার হলেও এখনো ওই লম্পট শিক্ষক গ্রেফতার হয়নি। আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমরা জানতাম না, পরে বিষয়টি জেনেছি। ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপার দেখছেন। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বরই খাওয়ানোর কথা বলে শিশুকে নিপীড়নের পর হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

বরই খাওয়ানোর কথা বলে শিশুকে নিপীড়নের পর হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

পাশের বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার তরুণী

পাশের বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার তরুণী

জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইকবাল সোবহান

জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইকবাল সোবহান

মাদককারবারি আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

মাদককারবারি আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইনে প্রতারণা, গ্রেফতার আরও ২

ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইনে প্রতারণা, গ্রেফতার আরও ২

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম