গাজীপুরে দুই রাতে ৮ হত্যা, জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরে টানা দুই রাতের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় আটজনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে কালিয়াকৈরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের নিয়ে আসা একটি ট্রাকেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। রোববার ভোরে একটি ট্রাক নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি গরু চুরি করতে আসে বলে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে। চোরদের নিয়ে আসা ট্রাকটিও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। রাউৎকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় ঘাতক ফোরকান মিয়া। শনিবার সকালে একটি বাড়ি থেকে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
নিহতরা হলেন—ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।
পুলিশ জানায়, ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক। তিনি প্রায় এক বছর ধরে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কম্পিউটার টাইপ করা সাধারণ ডায়েরির কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ফোরকান।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান মিয়া যুগান্তরকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে ফোরকানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফোরকান তার যে ভাইকে ফোন করেছিল তার মোবাইল নাম্বারসহ তার পরিবারের কয়েকজনের মোবাইল বন্ধ ফোন পাচ্ছি।
টানা দুই রাতে পৃথক ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাজীপুরের মাওনা এলাকার লেখক, কবি ও সাংবাদিক ইজাজ আহমেদ মিলন রোববার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন- ‘কি হচ্ছে এসব গাজীপুরে?’

