তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, ভিক্ষুক সেজে দুই চোর গ্রেফতার
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, ভিক্ষুক সেজে দুই চোর গ্রেফতার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বসতঘরের তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি হয়। পরে ভিক্ষুক সেজে দুই পেশাদার চোরকে ২১ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মুক্তাগাছা উপজেলার বিরাশি মধ্যপাড়া এলাকার সৌরভ মিয়া (৩০) ও জনি (২৫)।
গ্রেফতারকৃতদের থেকে চুরি যাওয়া ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মুক্তাগাছা থানার এসআই তন্ময় জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি ইউপির বিরাশি এলাকার ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম জমি কেনার উদ্দেশ্যে ব্যবসার ৩৫ লাখ টাকা বাড়িতে স্টিলের ট্যাংকে রেখে দেন। তার বাবা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ায় বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন তার মা হাসিনা বেগম। গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে সুযোগ বুঝে ঘরের তালা কেটে শয়নকক্ষের স্টিলের ট্রাংক ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র।
এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। মুক্তাগাছা থানার নবাগত ওসির প্রচেষ্টায় এসআই তন্ময়ের নেতৃত্বে ভিক্ষুক সেজে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে চোরচক্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার চরকুষ্টিয়া এলাকায় সৌরভের খালার গোয়ালঘরের মাচার নিচ থেকে আরও ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এসআই তনয় কুমার দাস যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে কক্সবাজার চলে যান এবং বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় এবং ওসির দেখানো কৌশলে শেষমেশ তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার দুইজনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। টাকাসহ আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধারকৃত টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
