খেলতে গিয়ে নিখোঁজ শিশু হুমায়রা, ২১ ঘণ্টা পর মিলল লাশ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। বাড়িতে না ফেরায় মেয়ের খোঁজ করেন মা তোষী খাতুন। খবর দেওয়া হয় বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্তকে।
শান্ত কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। খবর পেয়ে ছুটে যান বাড়িতে। সারারাত এখানে সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু হুমায়রার সন্ধান না পেয়ে অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। জানানো হয় পুলিশকে।
এদিকে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশু হুমায়রার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকায়। চার বছরের ফুটফুটে সন্তান হুমায়রাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। শিশু হুমায়রার হত্যাকাণ্ডে পাড়া-প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর রোববার বিকেলে শিশু হুমায়রাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে রোববার বিকাল ৩টায় শিশু হুমায়রা জান্নাতের লাশ এলাকায় পৌঁছলে এলাকাবাসী লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি শিশু হুমায়রার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতারের আগে তারা শিশু হুমায়রার লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে পুলিশকে জানান।
ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল। পরে দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চানন্দ সরকার বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে কিছুটা শান্ত করেন। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে বলে ওসি এলাকাবাসীর অঙ্গীকার করলে শিশু হুমায়রার লাশ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাতে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আগে বাড়ির বাইরে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায় হাসিবুল ইসলাম শান্তর মেয়ে হুমায়রা জান্নাত। সন্ধ্যার পরও হুমায়রা বাড়িতে না ফেরায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের সদস্যরা ও এলাকার মানুষ। অভিযোগ করা হয় পুলিশে। ফলে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রতিবেশীরা বাড়ির আশপাশসহ পুকুর ডোবা ও জঙ্গলে খোঁজাখুঁজি করেন।
পরদিন শনিবার সকালেও হুমায়রাকে না পেয়ে তার বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত ফেসবুকে মেয়ের ছবি দিয়ে কেউ সন্ধান দিতে পারলে তাকে লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। শেষে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর আকস্মিকভাবে এদিন দুপুরের পর বাড়ির পেছনের খেজুরগাছের নিচে শিশু হুমায়রার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ হুমায়রার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
রোববার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় শিশু হুমায়রার জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
এদিকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হুমায়রার বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। রোববার বিকালে যোগাযোগ করা হলে হুমায়রার বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত বলেন, কোনো খাবারের লোভ দেখিয়ে আমার মেয়েকে বিষ খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি যখন তার নিথর দেহটি তুলে বুকে নিয়েছিলাম তখন আমি বিষের গন্ধ পেয়েছি হুমায়রার মুখে। শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমাকে সন্তানহারা করেছে। এখন আমি কী নিয়ে বেঁচে থাকব। এলাকার কারো সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো শক্রতা নেই। কেন আমার অবুঝ মেয়েকে কেড়ে নেওয়া হলো।
শিশু হুমায়রার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশুটির শরীরে ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন ছিল। পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিক কারণেই ঘটেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ময়নাতদন্তের সময় ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষ খাইয়ে হত্যা করা হলে তা শনাক্ত হবে।
দুর্গাপুর ওসি পঞ্চানন্দ সরকার জানান, নিখোঁজের ২০-২১ ঘণ্টা পর শিশু হুমায়রার লাশ বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুর গাছের নিচে পাওয়া গেছে। কে বা কারা শিশুটিকে হত্যা করেছে তা বের করতে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথাও হত্যার পর বাড়ির কয়েকশ গজ কাছে শিশুটির লাশ ফেলে রেখে গেছে হত্যাকারীরা। কারণ যেখানে হুমায়রার লাশ পাওয়া গেছে এই স্থানটি বাড়ির ২০ গজ দূরে। নিখোঁজের পর এসব জায়গাতেও অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিল। তখন লাশ পাওয়া যায়নি। রোববার দুপুরের পর কেউ না কেউ হুমায়রার লাশ ফেলে রেখে গেছে। হত্যারহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
