বজ্রপাতে নদীতে নিখোঁজ বৃদ্ধের লাশ ভারতে উদ্ধার
Advertisement
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দিনাজপুরের বিরলে বজ্রপাতে মৃত্যুর পর নিখোঁজ হন ইসমাইল হোসেন (৬০)। পরে ভারতের অভ্যন্তরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। ২০ দিন পর বুধবার (২০ মে) দুপুরে ইসমাইল হোসেনের লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।
দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারত হিলির ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশ হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে বাবার লাশ পেলেও স্তব্ধ ছেলে ও স্বজনরা।
হিলি সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, বাবার লাশ এক নজর দেখতে ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার দিকে তাকিয়ে আছেন ছেলে হায়দার আলী। কখন আসবে বাবার লাশের কফিন। দেখবেন এক নজর বাবার মুখ। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল দীর্ঘ ২০ দিন পর।
কথা হয় মৃত ইসমাইলের ছেলে হায়দার আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, গত ১ মে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর পূণর্ভবা আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যান তার বাবা ইসমাইল হোসেন। একপর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হয় সেই সঙ্গে বজ্রপাত হতে থাকে। সেই সময় বজ্রপাতে তার বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে লাশটি নদীর পানিতে ডুবে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দল কয়েক দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালালেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় লাশ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে ওই দিনেই বিরল থানাতে সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজের পরিবার।
পরে ভারত অংশের নদীতে ভাসতে দেখে ভারতীয় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এরপর মে মাসের ৪ তারিখে ভারতীয় একটি টেলিভিশনে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ভারতে দক্ষিণ দিনাজপুর গঙ্গারামপুর থানা পুলিশ একটি লাশ নদী থেকে উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সমন্বিত যোগাযোগেরমাধ্যমে লাশটি নিখোঁজ ইসমাইলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, লাশ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (২০ মে) দুপুরে মৃতের ছেলে হায়দার আলীর কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
