দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক
Advertisement
মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিবর্তন ফি ও অফিস খরচের নামে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৭ অক্টোবর যুগান্তরে ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড/সোনালী সেবায় সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লোপাট’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দুদকের সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয় এ অনুসন্ধান শুরু করে।
যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় পরিবর্তনের জন্য (টিসি) নির্ধারিত ফি ‘সোনালী সেবা’ খাতে ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, একটি অংশের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এ-সংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী বিদ্যালয় পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ‘সোনালী সেবা’ খাতে এক হাজার টাকা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৭০০ জনের ফি বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা বোর্ডের তহবিলে জমা না দিয়েই তাদের বিদ্যালয় পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়।
এতে নির্ধারিত ফি বাবদ ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া ৩৮ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অতিরিক্ত এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে প্রায় ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সার্ভারের কোড পরিবর্তন করে বিশেষ কৌশলে এ অনিয়ম করা হয়েছে। নগদ টাকা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ব্যাংক জমার কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় নিবন্ধন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট এ অনিয়মে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুদকের সমন্বিত দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান জানান, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অনুসন্ধানে নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমতি চেয়ে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

-6aca659a2a0ef.jpg)