নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫
Advertisement
ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
আহতদের মধ্যে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইটভাটার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বক্তাবলী এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত সামেদ আলীর অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শওকত আলীর ছত্রচ্ছায়ায় সামেদ আলী বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকার ২০ থেকে ২৫টি ইটভাটা থেকে চাঁদা আদায় করতেন। পাশাপাশি উচ্চমূল্যে ইটভাটায় মাটি বিক্রির সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর শওকত আলী আত্মগোপনে গেলেও সামেদ আলী এলাকায় সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে মারধর করানোর অভিযোগও ওঠে সামেদ আলীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহের কথা বলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানের নাম ব্যবহার করে লোকজন পাঠাচ্ছিলেন সামেদ আলী। বিষয়টি জানতে পেরে সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ সভাপতি নজরুল প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
গুলিবিদ্ধ হৃদয় অভিযোগ করেন, হালিম আজাদ পিস্তল দিয়ে তার পায়ে গুলি করে চলে যান। অন্যরা টেঁটা ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, শুনেছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানের একটি সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ দলবল নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ইটভাটার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

-6aca6664db1cf.jpg)