সার সংকটের পর এবার বৃষ্টিতে সর্বনাশ, ডুবল আগাম আলু-ফুলকপি
Advertisement
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
সার সংকটের পর এবার বৃষ্টিতে সর্বনাশ, ডুবল আগাম আলু-ফুলকপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভরা মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টির দেখা না মিললেও আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের আগাম সবজি ও আলুর খেত। দিনভর বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
তেল ও সারের সংকটের ধকল কাটতে না কাটতেই এই আকস্মিক বৃষ্টি তাদের মাঝে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবে না বলে আশা প্রকাশ করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বীরগঞ্জে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৮৯৬ হেক্টর। এর মধ্যে আমন ২৯ হাজার ৫৯২ হেক্টর, আগাম আলু ৪০ হেক্টর, ফুলকপি ৩১২ হেক্টর, বাঁধাকপি ৫৫ হেক্টর, বেগুন ২০০ হেক্টর, শসা ৩০ হেক্টর, লাউ ৮৩ হেক্টর, শিম ১২ হেক্টর এবং করলা ২ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। বাকি জমিতে চাষ হয়েছে অন্যান্য ফসল।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার অধিকাংশ নিচু ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এতে শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আগাম আলু, শাকসবজি ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের সবজি চাষি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক একর জমিতে আগাম জাতের ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই তা বাজারে তোলার কথা ছিল; কিন্তু এই হঠাৎ বৃষ্টি আমাদের চরম বিপদে ফেলে দিল। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে গেলে গাছের গোড়ায় পচন ধরে তা মরে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে সবজির পুরো ক্ষেতই নষ্ট হয়ে যাবে, এতে আমরা সর্বস্বান্ত হব।
একই উদ্বেগের কথা জানান সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের চাষি মহবুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার নিয়ে নানা শঙ্কা থাকার পরেও প্রায় ৭ একর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছিলাম; কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে বীজের ওপরের মাটি ধুয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আলু পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এখন সেখানে নতুন করে আবার বীজ ফেলতে হবে। আগের পুরো খরচটাই লোকসান হলো।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাশেম আলী বলেন, মাঝে মাঝে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষিতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আগাম সবজি কিংবা আলু চাষের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি একটু বেশি। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করছি।
