হাসিনা হত্যা মামলায় প্রেমিকের যাবজ্জীবন
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর এলাকায় সাত বছর আগে হাসিনা বেগম (৩৬) নামের এক পোশাকশ্রমিককে হত্যার দায়ে আলমাস বেপারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমাস বেপারী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পূর্ব উজানচর হাজী আব্দুল গফুর মণ্ডলপাড়ার মাহাম বেপারীর ছেলে। একই পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে হাসিনা বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহত হাসিনা বেগমের ছেলে হাসান আলীর দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাসিনা রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খালিশা হাজীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে মিজানুর রহমান স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার সাভার থানার আড়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হাসিনা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গার্মেন্টসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন হাসিনা। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তার স্বজনদের জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মণ্ডলপাড়ার দক্ষিণ পাশে কালভার্টসংলগ্ন পাকা সড়কের ঢালে এক নারীর লাশ পড়ে আছে।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনার লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ সড়কের ঢালে ফেলে রাখা হয়েছিল।
আদালতের পিপি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলার বাদী পক্ষ দরিদ্র পরিবার। তাদের বাড়ি দূরে হওয়ায় তারা নিয়মিত আদালতে আসতে পারতেন না। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তারা মামলাটি পরিচালনা করেন।
তিনি আরও বলেন, আলমাস বেপারীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরকীয়া সম্পর্কের একপর্যায়ে হাসিনা বেগম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আলমাস তাকে কৌশলে গোয়ালন্দে নিয়ে এসে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

