Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

হিলিতে হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ আহত ৪, বসতবাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

Advertisement

Icon

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

হিলিতে হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ আহত ৪, বসতবাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট

আহত শিক্ষার্থী ফাহিম (বামে) ও তার দাদা ইছহাক আলী। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

দিনাজপুরের হিলিতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হিলির ধরন্দা (ফকিরপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- ইছহাক আলী (৭৫), তার দুই ছেলে ফারুক হোসেন (৫৫) ও ইমরান হোসেন (৪২) এবং ফারুক হোসেনের ছেলে ইনজামামুল হক ফাহিম (১৭)। 

এদের মধ্যে ফাহিমের অবস্থা গুরুতর। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাংলাহিলি পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম আগামী বছরের জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। আহতরা অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

এদিকে হামলার পর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাকিমপুর থানায় মামলা করতে আসেন ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন। কিন্তু মামলা না নিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে পুলিশ। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন অজুহাতে মামলা নিতে বিলম্ব করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে ‘অনেকটা বাধ্য হয়েই’ মামলা রুজু করে হাকিমপুর থানা পুলিশ। 

মামলার আসামিরা হলেন, হাকিমপুর উপজেলার ধরন্দা গ্রামের মৃত সাজুর স্ত্রী মোছা. ঝর্ণা ও তার দুই ছেলে মো. সোহান, মো. সিহাব এবং মো. আলমের স্ত্রী মোছা. আলেখা ও তার দুই ছেলে মো. আলিম ও শাহিনুর; মো. আজাদের ছেলে মো. তাজু ও তার স্ত্রী মোছা. নিলুফা এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকুড়িহী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. আনোয়ারা বেগম।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলার বাদী ফারুক হোসেনের মেয়ের জামাই এমএ মুন্না দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন। বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য আসামি সোহানসহ দুজন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু সে সময় মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসা চালু না থাকায় তারা টাকা ফেরত চাইলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তাদেরকে দেওয়া হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ফারুক হোসেনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

এরই মধ্যে সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন প্রবাসী এমএ মুন্না। বিষয়টি জানতে পেরে পাওনা টাকার দাবিতে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামিরা বাদী ফারুক হোসেনের বাড়িতে আসেন। এ সময় বাদীর মেয়ের জামাই মুন্নাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাকা পরিশোধে মুন্না আরও কয়েক দিন সময় চাইলে উভয়পক্ষে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করলে ফারুক হোসেনসহ তার পরিবারের চারজন আহত হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হামলার সময় ভুক্তভোগীদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় আসামিরা।

মামলার বাদী ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি আমার মেয়ের জামাই দেশে এসেছেন। টাকা পরিশোধের জন্য কয়েক দিন সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আমাদের সময় না দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ আমার বাবা, ছেলে ও ভাই আহত হয়।  

তিনি বলেন, হামলার সময় তার মেয়ের জামাইকে মারধর করে পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। তার ছেলে ফাহিমকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে রক্তাক্ত জখম হয়। তার বৃদ্ধ বাবা ও ভাইকেও মারধর করে জখম করা হয়। 

ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় আসামিরা আমার বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমার মেয়ের জামাইয়ের কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা এবং বাড়ি নির্মাণের কাজের জন্য রাখা ৫ লাখ টাকাসহ মোট  ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় আসামিরা। এছাড়া এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনসহ স্বর্ণালংকার লুট করে তারা, যার মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

আসামি সোহান (বামে) ও সিহাব। ছবি: সংগৃহীত

 

বাদী আরও অভিযোগ করেন, হামলার শিকার হয়ে আমরা সবাই ভীত হয়ে পড়ি। আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের মাথা জখম হওয়ায় তাকে নিয়ে দিনাজপুর যাই। সেখান থেকে তাকে রংপুরে রেফার্ড করা হয়। এরপর আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় আসি মামলা করতে। হামলার ভিডিও, আহদের যাবতীয় কাগজপত্র দেখানোর পরও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকে। তারা আমাদেরকে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার অসুস্থ শরীর নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানায় বসে থাকি মামলা করার জন্য। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর রাত ১১টার পর মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, গতকাল শুক্রবার রাতে মামলা হয়েছে, তবে এখনো আমি কাগজপত্র হাতে পায়নি। কাগজপত্র হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

আসামিতের গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে হাকিমপুর থানার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, আসামি ধরা হয়নি। আমার বাবার অসুস্থ থাকার কারণে আমি বাসায় চলে আসছি। মামলার বিষয়ে সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই সুজা মিয়াকে। তিনি সব বলতে পারবেন। 

মামলা নিতে বিলম্বের কারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে হাকিমপুর থানাতে সার্কেল ওসি এবং তদন্ত কর্মকর্তা আমি নিজেই। আমি সব দায়িত্ব পালন করছি। সেই সঙ্গে বিরামপুর সার্কেল অফিসার আমাদের হাকিমপুর থানার দায়িত্ব পালন করছেন। স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমি মামলা নিয়েছি, যার জন্য দেরি হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বিরামপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

বিরামপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুরসহ ৩ জন রিমান্ডে

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুরসহ ৩ জন রিমান্ডে

গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৮

গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৮

সালমান মুক্তাদির স্টুডিওতে হামলা: শাহরিয়ারের বিষয়ে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

সালমান মুক্তাদির স্টুডিওতে হামলা: শাহরিয়ারের বিষয়ে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

সিরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে বন্দুক হামলা, নিহত ৭

সিরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে বন্দুক হামলা, নিহত ৭

আরও পড়ুন

বিনাপয়সায় সিগারেট না দেওয়ায় দোকানির শরীরে আগুন

বিনাপয়সায় সিগারেট না দেওয়ায় দোকানির শরীরে আগুন

১২ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ

১২ দিনের ব্যবধানে একই গ্রামের দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ

শ্রমিক দল নেতাকে গুলি, ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

শ্রমিক দল নেতাকে গুলি, ৫ জনকে কুপিয়ে জখম

গাছে বড় ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ, স্ত্রীসহ ছোট ভাই পলাতক

গাছে বড় ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ, স্ত্রীসহ ছোট ভাই পলাতক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম