দুই বন্ধুর মৃত্যু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘আল্লা তুই কি করলু, হামার বুকের মানিকোক না নিয়া হামাকে নিলু না ক্যানে। হামার বুকের ধনকছাড়া হামরা কেমন করি বাছমো। বাবা তুই বুড়া মাও বাপোক ছাড়ি কোনটে গেলু’- এভাবে কথা বলে বারবার মূর্ছায় যাচ্ছেন কিশোর অহিদের মা কাজলী বেগম।
অপর দিকে মাসুদ রানার বাবা নুর ইসলাম ফুঁপিয়ে কাঁদছেন আবার কখনো নির্বাক হয়ে চেয়ে থেকে বলছেন, ‘আল্লা মোর ছাওয়াটাক কি কুরবানি হিসাবে নিলু। আল্লা মোর ছাওয়াটাক বেহেস্তে দান করিস’।
রংপুরের তারাগঞ্জে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ বন্ধুর মধ্যে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার কাশিয়াবাড়ি এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
নিহতরা হলেন- উপজেলার কিসামত মেনানগর তেলিপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে অহিদ ইসলাম (১৪) এবং একই গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা (১৫)।
এমন নির্মম ঘটনায় ঈদের আনন্দ থেমে গিয়ে স্বজনসহ এলাকার লোকজনের মধ্যে বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পুরো এলাকা।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন কিশোর পরিবারের অভাব দুর করতে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ঈদের ছুটি পেয়ে ঈদের দুই দিন আগে বাড়িতে আসেন সবাই। ঈদের দিন নামাজ আদায়ই করে বন্ধুরা মিলে আনন্দ উল্লাস করেন। ঈদের পর দিন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই গ্রামের ৫ বন্ধু মিলে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে যায়। ভরা যমুনেশ্বরীতে গোসলে নেমে সবাই আনন্দ উল্লাস করেন।
নদীর এপার থেকে ওপার যাওয়ার চেষ্টা করলে নদীর পানির স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। এ সময় ৫ জন বন্ধুই নদীতে নিখোঁজ হয়ে পড়েন। নদী এলাকার লোকজন ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে দ্রুত বেশ কয়েকজন নদীতে নেমে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর তিনজন জীবিত উদ্ধার করলেও বাকি দুজনের কোনো সন্ধান পায়নি।
খোঁজাখুঁজির ৩ ঘণ্টা পর অহিদ ইসলামের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। দুপুরের দিকে তারাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে মাসুদ রানার লাশ উদ্ধার করেন।
সরেজমিনে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুই কিশোর বন্ধুর এমন অকাল মৃত্যুতে তাদের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আনন্দেও রেশ কাটতে না কাটতে তাদের এক মাত্র ছেলেদের হারিয়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ মোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা আজম আলী বলেন, এ দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। যারা সন্তান হারিয়েছেন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই।
ইউপি সদস্য মজুমদার রহমান বলেন, দুই পরিবারেরই শুধুমাত্র একজন করে ছেলে। তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।
তারাগঞ্জ থানার এসআই ফয়সাল রেজা জানান, নদীতে গোসলে নেমে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল করা হয়েছে। লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
