বরফভর্তি বোতলের আঘাতে শিক্ষার্থী অজ্ঞান, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বরফভর্তি বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার (১১) মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে। তার বাবা-মা ঢাকায় কর্মরত। সে স্থানীয় নানার বাড়িতে থেকে পাশের খালিয়াজুরী উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এর আগে গত ১ জুন এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে খালিয়াজুরী উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে পৌঁছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ মে অভিযুক্ত কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ঈদের ছুটির কারণে চিঠিটি পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার সময় শিক্ষক কাউসার আহমেদ বরফভর্তি একটি বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে। একাধিকবার জ্ঞান হারানো, বমি এবং কান দিয়ে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
পরে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় পরদিন মুগ্ধর মামা মারুফ খান বাদী হয়ে শিক্ষক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে খালিয়াজুরী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। একই দিন আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এদিকে ঘটনাটি তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষক কাউসারের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ মারধরের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় তাকে শাসন করা হয়েছিল। খারাপ উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়নি।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, তদন্তে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
