Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

অর্ধযুগ ধরে অন্ধকার ঘরে শিকলবন্দি যুবক মামুন, ছেড়ে গেছেন স্ত্রীও

Icon

জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী, সেনবাগ (নোয়াখালী)

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

অর্ধযুগ ধরে অন্ধকার ঘরে শিকলবন্দি যুবক মামুন, ছেড়ে গেছেন স্ত্রীও

Advertisement

চারপাশের মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবনে ব্যস্ত, মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মাকে নিয়ে সুখের সংসার করছেন- তখন অন্ধকার ঘরের কোণে পায়ে লোহার শিকল আর তালাবদ্ধ অবস্থায় দিন কাটছে মামুনের। তাকে ছেড়ে চলে গেছেন স্ত্রীও। সঙ্গে নিয়ে গেছেন সন্তানদের।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জিরুয়া গ্রামের দিনমজুর মো. হানিফ মিয়ার বড় ছেলে ৩৮ বছরের যুবক আবুল হোসেন মামুনের এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ ছয়টি বছর।

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলাই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে অর্ধযুগ ধরে তাকে এভাবেই বন্দি করে রেখেছে তার অসহায় পরিবার। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সে সবার বড়।

স্থানীয় লোকজন জানান, মামুন আর ১০টা সাধারণ ছেলের মতোই মেধাবী ও চঞ্চল ছিলেন। বিয়ে করে সংসারও করেছেন, হয়েছেন ২ সন্তানের জনক। এর মধ্যে মামুনের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে অন্যত্র সংসার করছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে আগে হঠাৎ করেই তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। কোনো কারণ ছাড়াই হিংস্র হয়ে ওঠা, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা এবং মানুষকে আঘাত করার প্রবণতা তৈরি হয় তার মধ্যে। প্রথমদিকে পরিবার সাধ্যমতো কবিরাজি ও প্রাথমিক চিকিৎসা করালেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে মামুন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং প্রতিবেশীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ানোয়, বাধ্য হয়ে তার পায়ে শিকল পরিয়ে দেয় পরিবার।

মামুনের বাবা একজন দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে ছেলের উন্নত মানসিক চিকিৎসা করানো এক অলীক স্বপ্ন। টিনের চালের এক কোণায় কাটে মামুনের দিন-রাত।

মা রেশমা আক্তার কহিনুর বলেন, ‘কোনো মা-বাপ চায় নিজের কলিজার টুকরারে এভাবে শিকল দিয়া বাইন্ধা রাখতে? আমার বুকটা ফাইটা যায়; কিন্তু ছাইড়া দিলে ও মানুষের ক্ষতি করে, বাহিরে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। আমাদের তো ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নাই। আল্লায় যদি ওরে নিয়া যাইত, তাও এই কষ্ট দেখতাম না।’

বাবা হানিফ মিয়া বলেন, মামুনকে যদি কোনো ভালো মানসিক হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসা দেওয়া হতো, তবে হয়তো সে আবার সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারত। আমার কাছে যা ছিল তা দিয়ে চেষ্টা করেছি; কিন্তু টাকার অভাবে একটি প্রাণ এভাবে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসী, সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপনাস চন্দ্র দাস বলেন, আমি মাত্র কয়দিন আগে এখানে যোগদান করেছি। এসেই মামুনের বিষয়টি অবগত হই। আমি আমাদের ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলেছি। তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপের সন্ধান, দৈনিক মিলবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

গ্রেফতার ইউপি সদস্যকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল স্বজনরা

গ্রেফতার ইউপি সদস্যকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল স্বজনরা

কমিটি অনুমোদনের ৪ ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করলেন এনসিপি নেতা

কমিটি অনুমোদনের ৪ ঘণ্টার মাথায় পদত্যাগ করলেন এনসিপি নেতা

সালিশ বৈঠক শেষে থানার গেটে দুগ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬

সালিশ বৈঠক শেষে থানার গেটে দুগ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৬

একসঙ্গে প্রাণ গেল দুই বোনের

একসঙ্গে প্রাণ গেল দুই বোনের

হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা বৃদ্ধকে গুলি

হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা বৃদ্ধকে গুলি

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম