সবার পরিচিত ‘মিঠু’ খাঁচায় বন্দি, মুক্ত করতে থানায় অভিযোগ
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
খাঁচায় বন্দি মিঠু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে টিয়া পাখি খাঁচায় বন্দি রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব আনারুজ্জামান রিপন এ আইন অমান্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি বন্য টিয়া পাখি (ডাক নাম মিঠু) ১২ দিন ধরে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) এ ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইউনিয়নের সাঁইধারা গ্রামের মকবুল হোসেনের বাড়িতে প্রায় ৫ বছর আগে স্বেচ্ছায় আশ্রয় নেয় একটি টিয়া পাখি। উন্মুক্ত পরিবেশে খাবার ও আদর-যত্ন পেয়ে পাখিটি ওই বাড়ি ছেড়ে আর কোথাও যায়নি।
মকবুল হোসেন জানান, তার ছেলের নাম মিঠু। বাড়ির কোনো লোকজন ‘মিঠু' নাম ধরে ডাকলেই ওই টিয়া পাখি সাড়া দিয়ে তার কাঁধে বা মাথায় এসে বসে। এ কারণে তার ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে ওই টিয়া পাখিরও নাম রাখা হয় ‘মিঠু’। একপর্যায়ে পাড়ার সবার কাছেই পাখিটি মিঠু নামে পরিচিত হয়। পাড়ার সবাই মিঠুকে ডেকে নিয়ে গল্প করেন এবং অনেকে বাজার থেকে পাকা কলা কিনে খেতে দেন।
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ‘মিঠু’ মকবুল হোসেনের বাড়িতে থাকলেও তাকে কোনোদিন বন্দি রাখা হয়নি। কিন্তু গত ১ জুন সকালে মকবুলের বাড়ি থেকে হারিয়ে যায় মিঠু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, ইউপি সচিব আনারুজ্জামান রিপন মিঠুকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনারুজ্জামান রিপন মিঠুকে খাঁচায় বন্দি রাখার কথা স্বীকার করে জানান, তার শাশুড়ির কাছ থেকে ৫০০ টাকায় পাখিটি তিনি কিনে নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবীর বলেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বন্য টিয়া পাখি ধরা, কেনা-বেচা বা খাঁচায় বন্দি রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন কেউ অমান্য করেলে সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে সাজা ভোগ করতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল আলীমও একই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, টিয়া পাখি মূলত বনভূমির বড় বড় গাছে সৃষ্ট বাসার উপর নির্ভরশীল। কাজেই টিয়া পাখির বংশ বিস্তারের জন্য তাকে বন্দি না রেখে উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণের সুযোগ দিতে হবে।
বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাট গাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ দ্রুত পাখিটি মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।
