থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ বরখাস্ত
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করায় তরুণ-তরুণীকে থানায় এনে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুজ্জামান রাকিবকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ৬ কর্মকর্তাসহ ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্তের আদেশপ্রাপ্তরা হলেন- এসআই মাসুদ রানা, আলম বাদশা, আক্তারুল ইসলাম, এএসআই মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেসা এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেসুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী।
এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি আজাদ রহমানকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়।
এ বরখাস্তের আদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে পুলিশের খুলনা রেঞ্জে ডিআইজির কাছে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় যুবদল নেতাকে মারধোরের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় গত ৩ জুন সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য পূর্বে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং কোতোয়ালি থানায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে যুবদল নেতা মো. রাকিবুজ্জামান রাকিব, প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণী এবং রুমন বাবুর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অদক্ষতা, অপেশাদার আচরণ ও অসদাচরণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সদস্যদের আচরণের ফলে ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় পিআরবির ৮৮০ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) উপধারার বিধান অনুযায়ী উপরোক্ত ১১ জন পুলিশ সদস্যকে ১১ জুন বিকাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তারা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় নগরীর সিও বাজার এলাকা থেকে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণ-তরুণীকে থানায় এনে মারপিট করলে তাতে বাধা দেন রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুজ্জামান রাকিব। এ ঘটনায় তৎকালীন ওসি আজাদ রহমানসহ ছয়জনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। পরে তৎকালীন ওসি আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এই ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
