দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘাটের উজানে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তত ৭০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দা ও ঘাট সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি ও জিওব্যাগ। ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গত কয়েক বছরে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকায় বহু বাড়িঘর, ফসলি জমি, লঞ্চ ও ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বর্ষা মৌসুমে জিও ব্যাগ ফেলার কারণে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। তাই বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নদীপাড়ের বাসিন্দা মো. মমিন মণ্ডল, আকলিমা বেগম, রোজিনা আক্তারসহ অনেকে বলেন, পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার পর গত কয়েক দিন ধরে পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে যাবে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আগেও কয়েকবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। এখানে ভাঙলে আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতি বছরই এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। এবারও কয়েকটি ঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ গোয়ালন্দের পদ্মা নদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরিভিত্তিতে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

