Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

‎আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

Icon

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

‎আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে হাজিরা দিতে আমগাছে উঠেছেন মোহাম্মদ আবু তাহের নামে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষক। নেটওয়ার্ক সংযোগ পেতে তিনি গাছে উঠেছেন বলে জানা গেছে। 

সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ‎ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‎ 

‎সম্প্রতি সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। যা ১৫ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী- প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আবু তাহের। 

এদিন আবু তাহের অনলাইনে হাজিরা দিতে যান। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক নেই। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেটওয়ার্কের খোঁজে পাশের পাহাড়ের চূড়ায় একটি আমগাছে ওঠে ডালে দাঁড়িয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পরে কোনো রকম নেটওয়ার্ক পাওয়ায় অনলাইনে হাজিরা দিতে পারেন তিনি।

আবু তাহের জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী হাজিরা দিতে গিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের প্রায় কয়েকশ ফুট নিচে অবস্থিত। এদিন সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথমে ছাদ থেকে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক পাননি। পরে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে চেষ্টা করেন। কিন্তু এতেও নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পাশের একটি আমগাছের ডালে ওঠে কোনোরকম নেটওর্য়াক পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানো সম্ভব হয়েছে। 

তিনি বলেন, চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে গাছে উঠতে বাধ্য হতে হয়েছে, চাকরি না থাকলে পরিবারে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ান চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে প্রথমদিন ৮৮টি স্কুলের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। ২৮টি স্কুলের ৮৩ শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলের শিক্ষকরা অনলাইন হাজিরা সহজে দিতে পারলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক কঠিন। রাঙামাটি জেলার অনেক জায়গায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগও স্থাপিত হয়নি। এমনকি জেলা সদরের অনেক এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। তাই পাহাড়ি এলাকার জন্য বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথমদিন (১৫ জুন) ৫৩৮টি স্কুলের শিক্ষক হাজিরার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি স্কুল মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের অনলাইনে হাজিরা পাওয়া যায়নি। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত নির্দেশনা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে, সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো এসএমএসে সম্ভব, সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি এলাকাগুলোর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সাজেক সংকট নিরসনের উদ্যোগ ঝুলে গেছে, বিপর্যয়ের মুখে পর্যটন

সাজেক সংকট নিরসনের উদ্যোগ ঝুলে গেছে, বিপর্যয়ের মুখে পর্যটন

সাজেকে ফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অবরোধ

সাজেকে ফের গোলাগুলি, সোমবার থেকে অবরোধ

সাজেকে গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা

সাজেকে গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা

সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ সাজেকে খাদ্যসংকটের শঙ্কা, পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ সাজেকে খাদ্যসংকটের শঙ্কা, পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

সংলাপ চললেও অবরুদ্ধ সাজেক, পাঁচ দাবির একটিতে আটকা সমঝোতা

সংলাপ চললেও অবরুদ্ধ সাজেক, পাঁচ দাবির একটিতে আটকা সমঝোতা

সাজেক সংকট, অনিশ্চয়তা কাটছে না

সাজেক সংকট, অনিশ্চয়তা কাটছে না

আরও পড়ুন

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

৪৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ২১৫ গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

গাছতলায় চিকিৎসা শিশুদের

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

শান্তির উদ্যোগ আস্থা পায়নি

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

প্রথম দিনে পৌঁছাল ৮৩৬ পর্যটক উৎসবের আমেজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম