বিয়েবাড়িতে সবাই ব্যস্ত, পুকুরে ডুবল দুই বোন
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
মোহনগঞ্জ থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিয়ের অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় থাকাকালে পুকুরে ডুবে দুই শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলো- উপজেলার পাবই গ্রামের হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)। নিজাম উদ্দিনের এই দুই মেয়ে ছাড়া আর কোনো সন্তান নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নিজাম উদ্দিনের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে শিশুদের মা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে বাবা নিজাম উদ্দিনও বিয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে দুপুরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।
কিছু সময় পর পুকুরে একটি শিশুকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিবেশী মিজানুর রহমান বলেন, নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। শিশুদের মা পাশের বাড়িতে গল্প করছিল। আর নিজাম উদ্দিন নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই ফাঁকে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দুই মেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। নিজাম উদ্দিনের দুটি মেয়েই ছিল, তার আর কোনো সন্তান নেই। এমন ঘটনায় বিয়েবাড়ি বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পুলিশ অবহিত করার জন্য একাধিকবার মিটিং করে চিকিৎসকসহ সবাইকে বলেছি; কিন্তু তারা সেই কথা আমলে নিচ্ছে না। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, এমন ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে জানানো প্রয়োজন। দায়িত্বরতদের অবহেলার বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি তিনি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
