সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা, প্রক্সি প্রার্থী চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি (ভুয়া) পরীক্ষার্থী ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহকারী ৬ সদস্য গ্রেফতার। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি (ভুয়া) পরীক্ষার্থী ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি ফাঁকা স্ট্যাম্প, ৪টি শিক্ষাগত সনদ, ৮টি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক এবং একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি দেশের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
শনিবার (২০ জুন) নগরীর সেন্ট্রাল রোডে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নগরীর ধাপ এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। অভিযানে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ও ডিভাইস সরবরাহকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নগরীর কামালকাছনা চিরারমিল এলাকার ফেরদৌস আলমের ছেলে তাওরাত আকরাম (২৭), সতাগাড়া এলাকার মোবারক আলীর ছেলে বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাহেব আলী (২৬), রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের এমদাদুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৪), আশরাফুল ইসলাম (৩৬) ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে হাফিজ আল মামুন (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং পরীক্ষায় ব্যবহারের জন্য বিশেষ ডিভাইসের ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা একটি সুসংগঠিত চক্রের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। নানা কৌশলে তারা এতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে গেলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৫টি ফাঁকা স্ট্যাম্প, ৪টি সনদপত্র, ৮টি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক এবং মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এসব আলামতের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং তাদের প্রতারণার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
