ঋণের চাপে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋণের চাপে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার দোহারে স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত মা-মেয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় মানসিক চাপে তারা এ পথ বেছে নেন। তাদের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি গালাগাল করছিলেন ঋণদাতা সংস্থার কর্মকর্তারা। এ কারণে লজ্জায়-অভিমানে অসুস্থ হয়ে ২৪ জুন মারা যান দোহারের খালপাড় এলাকার লাভলী আক্তার। একই কারণে অসুস্থ হয়ে গত সোমবার রাতে মারা গেছেন মা রেহানা বেগম।
স্থানীয়রা ও নিহত মা-মেয়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামে একটি এনজির উপজেলার বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু ছেলে টাকা না পাঠানোয় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না লাভলী। এতে এনজিও কর্মকর্তারা তাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন।
কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভয়ে লাভলী বাড়ি ত্যাগ করে অন্যত্র অবস্থান নেন। তিনি উপজেলার নাগেরকান্দায় মায়ের বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে গিয়েও ঋণের টাকার জন্য চাপ দেন এনজিওর এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে লাভলীকে গ্রেফতার করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। ওই দিনই লাভলী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সন্ধ্যার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, লাভলীর মৃত্যুর সপ্তাহ না যেতেই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া এবং ভয় দেখানো হয় তার মা রেহানা বেগমকে। এতে রেহানা বেগম আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে দুটি লাশই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেহানা বেগমের ছেলে ও লাভলীর ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, আমার মা ঋণের বিষয়ে অবগত নন। তারপরও এনজিওর লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশের ভয় দেখায়। এসময় ঘরের সিঁড়িতে দাঁড়ানো অবস্থায় মা পড়ে গিয়ে মারা যায়। এনজিওর চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে আমার মা ও বোন মারা গেছে। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর বিচার চাই।
নাগেরকান্দা এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এনজিও কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ভয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলার বটিয়ায় অবস্থিত রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘ঋণগ্রহীতা লাভলী আক্তার ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হয়েছেন। আমরা টাকা আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। লাভলী মারা যাওয়ার পর আমরা তার ঋণ মওকুফের জন্য মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট চাইতে তার মায়ের বাড়িতে যাই। টাকার জন্য মাকে চাপ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে ওই এনজিওর বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
