পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা: ২০ বছর পর প্রেমিকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়ক মণ্ডল গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্বামী কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ২০ বছর পর নিহতের স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিকসহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়ক মণ্ডল এলাকার খুনের শিকার কেতাব উদ্দিনের স্ত্রী নুরনাহার (৪৮), শাশুড়ি ছকিনা বেগম (৬০), শ্বশুর নুর মোহাম্মদ (৬৮) ও স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল গফুর (৫২)।
মামলার এজাহার সূত্রের বরাতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম জানান, ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমন্ডল গ্রামে স্ত্রী নুরনাহার তার স্বামীকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে কৌশলে পার্শ্ববর্তী তার পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নুরনাহার ও তার পিতা-মাতা এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মিলে কেতাব উদ্দিনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জমিতে লাশ ফেলে রাখে। এ হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৯ এপ্রিল কেতাব উদ্দিনের পিতা আলীমুদ্দিন বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ১০ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করে।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অপর ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- গাজীবর রহমান, কুমুর উদ্দিন, সহিদুল ইসলাম, নুর হোসেন, হাসেম আলী ও রফিকুল ইসলাম।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন- অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন আলো ও অ্যাডভোকেট শামছুল হক আর সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনোয়ারুল হোসেন আলো বলেন, আমরা এ আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি। খুব শিগগিরই উচ্চ আদালতে যাব।
