স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটা
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এএসএস রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সন্ধ্যা রানী নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীসহ কয়েকজনকে লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার সকালে স্থানীয় শাহজালাল বাজার এলাকায় তিনি এক বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে এ মারপিট করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এএসএস রফিকুল ইসলাম জানান, মনে হয় তিনি মানবতা রক্ষা করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী কাজ করে ফেলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান সদস্য ও কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএসএম রফিকুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই সোমবার সকালে শাহজালাল বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম ছিলেন।
অভিযানের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ রিপন রবিদাসকে (৪২) মাদকসেবনের অভিযোগে লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। তাকে কান ধরে উঠবস, নাকে খত ও তওবা করিয়ে মাদকসেবন না করার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। তার মাথায় চোলাই মদ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। মাদক থেকে দূরে থাকতে চেয়ারম্যান তার নামে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় তার (রিপন) স্বামী পরিত্যক্তা শ্যালিকা সন্ধ্যা রানীকে লাঠি দিয়ে মারপিট করা হয়। সন্ধ্যা রানী আগে গাঁজা বিক্রি করলেও এখন করেন না। এরপরও চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে তাকে লাঠিপেটা করায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানের সময় চেয়ারম্যান একটু বেশি উগ্র হয়েছিলেন। জনগণকে সামলাতে গিয়ে তিনিও মারপিটে অংশ নেন; কিন্তু এটা তার ভুল হয়ে গেছে। তবে তিনি নারীকে মারপিটের সময় সেখানে ছিলেন না। তিনি এ ঘটনার জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যান এএসএম রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রামপুলিশ রিপন রবিদাস, তার স্ত্রী, শ্যালক ও স্বামী পরিত্যক্তা শ্যালিকা সন্ধ্যা রানী মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এলাকার লোকজন তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ‘মব’ থেকে তাদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি তাদের লাঠি দিয়ে মারপিট করেছেন। এছাড়া তারা আর মাদকসেবন ও বিক্রি করবে না মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, মানবতা রক্ষা করতে গিয়ে তিনি মনে হয় মানবতাবিরোধী কাজ করে ফেলেছেন।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আফম আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তিনি ফেসবুকে দেখেছেন। যাদের মারপিট করা হয়েছে, তারা মাদকসেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এরপরও তাদের পুলিশে না দিয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, তিনি কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রামপুলিশ ও তার আত্মীয়কে লাঠিপেটার কথা শুনেছেন এবং ভিডিও দেখেছেন। এ কারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
