কেডিএর জরাজীর্ণ মার্কেট ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে মিনি স্টেডিয়াম
নূর ইসলাম রকি, খুলনা
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানান অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কল্পতরু মার্কেট। নগরীর দৌলতপুরের দেয়ানা এলাকায় অবস্থিত জরাজীর্ণ এই মার্কেটটি কয়েক যুগ বন্ধ থাকায় অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি এই মার্কেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। কেডিএর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রহরী রাখা হলেও পুরো মার্কেটটি এখন অপরাধীদের কাছে জিম্মি।
এমন পরিস্থিতিতে পুরো জরাজীর্ণ মার্কেটটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল জায়গায় একটি মিনি স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কেট ভেঙে ফেলার বিষয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কেডিএ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পরবর্তীতে এগুলো থেকে ভাড়ার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো হবে।
কেডিএর এই উদ্যোগে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মার্কেটটি চালু করাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বারবার তা বিফলে গেছে, আর সেই সুযোগে অপরাধী সিন্ডিকেট অপরাধের হাত প্রসারিত করেছে। স্থানীয়দের দাবি, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের দ্রুত হস্তক্ষেপে যেন তারা এই মিনি স্টেডিয়ামের বাস্তবায়ন দেখতে পান।
জানা যায়, খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে দৌলতপুর থানার দেয়ানায় কেডিএর কল্পতরু মার্কেটটি অবস্থিত। ভবনসহ এর জমির পরিমাণ ৪.২৩ শতক। ১৯৮৯ সালে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বিশাল এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ১৪৩টি স্টলের মধ্যে ১৪২টির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে ১২২টি আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে ভাড়া না দেওয়ায় ১২০টি স্টলের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এত বড় বিনিয়োগ সত্ত্বেও কোনো আয় না আসায় কেডিএ কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি মার্কেটটি লিজ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা দর উঠলেও উপযুক্ত মনে না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কেটটি দীর্ঘমেয়াদি লিজের জন্য ফের বিজ্ঞপ্তি দিলে 'আকাঙ্ক্ষা ডেভলপারস লিমিটেড' ৮ কোটি ৮০ লাখ ৩ হাজার টাকা হেঁকে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় তখনও লিজ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১৭ সালের মে মাসে মার্কেটটি সংস্কার করে স্কুল বা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি নর্দান ইউনিভার্সিটির খুলনা শাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনে বড় ফাটল ধরেছে। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে এবং ভেতরে জঙ্গল তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ স্টলের শাটারই অকেজো, তবে কয়েকটি স্টল বর্তমানে গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিন-রাত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে রূপ নিয়েছে ভবনটি। সম্প্রতি একটি স্টল থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু এত বড় মার্কেট তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও দিতে পারছে না কেডিএ। সব মিলিয়ে মার্কেটটি কেডিএ কর্তৃপক্ষের জন্য এক ধরনের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী (চ.দা.) কাজী মো. সাবিরুল আলম যুগান্তরকে জানান, মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। এটি সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন, এই মুহূর্তে তা ব্যয় করা সম্ভব নয়। এছাড়া নতুন করে মার্কেট চালু করারও কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই এটি ভেঙে একটি মিনি স্টেডিয়ামসহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা যুগান্তরকে বলেন, ‘কল্পতরু মার্কেটটি ভেঙে মিনি স্টেডিয়াম করা হবে। সেখানে টিকিট কেটে সুইমিং পুল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এছাড়া জিমনেসিয়াম ও দোকানপাটের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। পুরো প্রকল্পটি কেডিএর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।"
